বন্ধ করুন

গ্লোবাল ভয়েসেসকে শক্তিশালী করতে আমাদের সহায়তা করুন

আমরা ১৬৭টি দেশের উপর রিপোর্ট করি। আমরা ৩৫টি ভাষায় অনুবাদ করি। আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস।

প্রায় ৮০০ এর বেশী গ্লোবাল ভয়েসেস এর লেখক একসাথে কাজ করছে আপনার কাছে অজানা সব গল্প তুলে ধরতে। কিন্তু আমাদের পক্ষে একা সব করা কঠিন। আমাদের অনেকেই স্বেচ্ছাসেবক হলেও আমাদের সম্পাদক, প্রযুক্তি এবং অ্যাডভোকেসী প্রকল্প ও সামাজিক অনুষ্ঠানের ব্যয়ভারের মেটানোর জন্যে আপনাদের সাহায্য প্রয়োজন।

আমাদের সহায়তা করুন এখানে ক্লিক করে: »
GlobalVoices পাওয়া যাবে আরও জানুন »

ভারতের আদালতে বাংলাদেশী কিশোরী হত্যার রায় নিয়ে ক্ষোভ

গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর একটি আদালত বাংলাদেশী কিশোরী ফেলানি হত্যার রায় দিয়েছে। আদালত অভিযুক্ত কনস্টেবল অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরবেলায় ভারতের কোচবিহার জেলার অন্তর্গত চৌধুরীহাট সীমান্ত চৌকির কাছে কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হন বাংলাদেশী কিশোরী ফেলানী খাতুন। তিনি তার বাবাকে নিয়ে বাংলাদেশে ফিরছিলেন। কনস্টেবল অমিয় ঘোষ গুলি করেন এবং ফেলানী ৪ ঘন্টা ধরে কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলে থাকে, মৃত্যু পর্যন্ত। তার অনেক চিৎকার শুনেও কেউ তাকে বাঁচাতে আসেনি। সে সময় সামাজিক সাইটগুলোতে ফেলানির ঝুলে থাকা ছবি ব্যপক প্রচার হয়। নানা ধাপ পেরিয়ে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট বিচার শুরু হয়।

এ রায়ের ঘটনা ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যেকার সম্পর্কে নতুন করে প্রভাব ফেলে।

ফেলানী হত্যার রায়ের প্রতিবাদে ভারতীয় হা্ই কমিশনের সামনে বিক্ষোভ।

ফেলানী হত্যার রায়ের প্রতিবাদে ভারতীয় হা্ই কমিশনের সামনে বিক্ষোভ। ছবি ইন্দ্রজিত ঘোষের। সর্ব সত্ত্ব ডেমোটিক্স (৯/৯/২০১৩)

ফেলানি হত্যায় অভিযুক্ত কনস্টেবল ‘নির্দোষ’ হিসেবে খালাস পাওয়ায় বাংলাদেশে সামাজিক মিডিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

আশফাক নিপুন বিএসএফ-এর সামরিক আদালতের রায়কে তামাশা বলে অভিহিত করেছেন:

So the verdict came; “No One Killed Felani!” What a joke!

বিচারের রায় এলো; “কেউ-ই ফেলানিকে খুন করেনি!” কী তামাশা!

ফারজানা জান্নাত (@farjana_neela) এই রায়কে ন্যায়বিচারের মৃত্যু হিসেবে দেখেছেন:

কেউ-ই #ফেলানিকে হত্যা করেনি কিংবা কাঁটাতারে ঝুলিয়ে দেয়নি। সব এমনি এমনি-ই হয়েছে। বিদায় #ন্যায়বিচার!

এই রায় সীমান্ত হত্যাকাণ্ড আরো উসকে দেবে বলে মনে করেন টুইটার ব্যবহারকারী সুবল সরকার (@burningNlearnin):

বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৩৭১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। প্রতিবছরই ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর গুলিতে অনেক বাংলাদেশী মারা যান। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১২ সালে বিএসএফ-এর গুলিতে ৩৮ জন মারা গেছেন।
সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের কারণ নিয়ে শান্তনু বণিক ফেসবুকে লিখেছেন:

Bangladesh is a small country next to the mighty India. Therefore, illegal immigration and border-crossing isn't uncommon. Everyday, ordinary people choose to take unthinkable risk in hopes of a better life on the other side of the fence.
It is s crime, but a petty crime. Not one that deserves the ‘Shoot on sight’ policy enforced by the Indian Border Security Force (BSF). [...]

ক্ষমতাধর ভারতের পাশে বাংলাদেশ একটি ছোট্ট দেশ। অবৈধ অভিবাসন এবং সীমান্ত পারাপার এখানে অস্বাভাবিক কোনো ব্যাপার নয়। প্রতিদিনই সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে ভালো কিছুর আশায় কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে পাড়ি জমায়।
হ্যাঁ, এটা অপরাধ। তবে তা খুব ছোট। এজন্য কেউ-ই ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর ‘দেখামাত্র গুলি’ নীতি আশা করেন না। [...]

Students form a human chain in front of the Indian high commission protesting against the verdict in the Felani killing case in India.

ফেলানী হত্যার রায়ের প্রতিবাদে ভারতীয় হা্ই কমিশনের সামনে মানববন্ধন। ছবি ইন্দ্রজিত ঘোষের। সর্ব সত্ত্ব ডেমোটিক্স (৯/৯/২০১৩)

বাংলাদেশে ভারতীয় পণ্যের বিপুল পরিমাণ বাজার রয়েছে। তাই ক্ষুদ্ধ অনেকেই ভারতীয় পণ্য ও টেলিভিশন অনুষ্ঠান বর্জনের ডাক দিয়েছেন। ব্লগার, লেখক আকতার আহমেদ ফেসবুকে লিখেছেন:

এই রায়ের বিরুদ্ধে আপনার ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া এবং অনুভূতিকে সম্মান জানিয়ে বলছি- সম্ভব হলে টিভিটা একটু বন্ধ করেন, ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি'র অমিতাভ বচ্চনের দরাজ গলার সামনে আপনার কথাগুলো বেশ অস্পষ্ট এবং বেমানান লাগছে!

তবে এর সাথে একমত নন ফেসবুক ব্যবহারকারী মুকিত মোহাম্মদ:

ফেলানী হত্যার রায়ের সাথে ভারতীয় টিভি অনুষ্ঠান পছন্দ করার সম্পর্ক কি? ঐদেশের টিভি অনুষ্ঠান পছন্দ করি বলে আমার দেশের মানুষকে তাদের মেরে ফেলা যেমন জাস্টিফাইড না, তেমনি এই কুবিচারের প্রতিবাদে ঐদেশের টিভি অনুষ্ঠান বর্জনও কোনো যৌক্তিক প্রতিবাদ না|

এদিকে রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ফেসবুকে বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাই কমিশনের সামনে গণঅবস্থান কর্মসূচীর ডাক দেয়া হয়েছে। যদিও ভারতীয় হাই কমিশন চূড়ান্ত রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে অনুরোধ জানিয়েছেন। হাই কমিশনের এক মুখপাত্রের মতে এই রায় যোগ্য কর্তৃপক্ষের দ্বারা অনুমোদন হওয়া বাকি আছে। তবে বিশেষ আদালতের রায়ে আপিল করার সুযোগ নেই।

3 টি মন্তব্য

আলোচনায় যোগ দিন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .


বিশ্বের অঞ্চলসমূহ

দেশ

ভাষা

বিশেষ টপিক

লেখাটির সাথে আছে