GlobalVoices পাওয়া যাবে আরও জানুন »

বাংলাদেশ: হত্যাকাণ্ডে বাধা না দিয়ে ছবি তোলায় ফেসবুকে সাংবাদিকদের সমালোচনা

অনুবাদগুলোএই লেখাটি পাওয়া যাবে এই কয়টি ভাষায়:

English · Bangladesh: Media Criticized For Not Helping Murder Victim
Malagasy · Bengladesy: Voakiana ny Haino Aman-Jery Noho ny Tsy Famonjena ireo Tra-Doza
Français · Bangladesh : Les journalistes critiqués sur Facebook pour leur passivité lors du lynchage d'un piéton
Español · Reporteros presenciaron brutal asesinato de Biswajit Das en Bangladesh
Português · Bangladesh: críticas à mídia no caso do jovem assassinado diante das câmeras

নারী-যুবা-প্রতিবন্ধী-দরিদ্র-প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও আদিবাসীসহ প্রতিটি মানুষের অধিকারের বিষয়টি জনজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ও নীতিনির্ধারণী স্তরে যেন উচ্চারিত হয়, সে লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশেও ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবসটি পালিত হয়েছে। তবে সেই দিনেই কি না দেশের সবগুলো পত্রপত্রিকার প্রথম পাতায়, টেলিভিশন চ্যানেলের প্রধান সংবাদ হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে বিশ্বজিত দাস নামের এক তরুণের রক্তাক্ত প্রয়াণ! সরকার ও বিরোধীদলের কর্মসূচীর মাঝে পড়ে প্রাণ হারায় সে। সরকারী দলের ছাত্রসংগঠনের কর্মীরা তাকে বিরোধীদলের কর্মী মনে করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ৯ ডিসেম্বর রোববার বিরোধীদলের ডাকা ৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচী পালনের সময় এই ঘটনা ঘটে।

বিশ্বজিত দাসকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার ছবি এবং ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকে, টুইটারে ছড়িয়ে পড়ে। দেশটির বেশিরভাগ ফেসবুক ব্যবহারকারীর হোমপেজে অনেকবার এই ছবি দেখা গেছে। অনেকে এটি শেয়ার দিয়ে ঘটনার নিন্দা করছেন। অনেকে নিজেকে বিশ্বজিতের জায়গায় কল্পনা করে আঁতকে উঠছেন!

Clashes on The Street

১৮ দলের অবরোধ কর্মসূচীর সময় অবরোধকারী ও অবরোধবিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হয়। ছবি ইব্রাহিমের। সর্বস্বত্ব ডেমোটিক্স (৯/১২/১২)।

পাভেল মহিতুল আলম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন:

অবরোধ চলাকালে বিশ্বজিৎ কুমার দাস নামের এক পথচারীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে ছাত্রলীগ কর্মীরা।
আমিও একজন পথচারী। বিশ্বজিতের জায়গায় আমি নিজেকে কল্পনা করেছি। বিশ্বজিৎ আর আপনার-আমার মধ্যে তো কোনো পার্থক্য নেই। আজ বিশ্বজিৎকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, কাল রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে যে আপনি বা আমি খুন হবো না, সেই নিশ্চয়তা কে দিবে?
স্বাভাবিক মৃত্যুর অধিকার বিশ্বজিতের ছিলো না, আপনার বা আমারও নেই।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতায় এর আগেও আরো অনেকে নিহত হয়েছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কোনো হত্যারই বিচার হয়নি। ব্লগার রাসেল পারভেজ আক্ষেপ করে লিখেছেন:

… বিশ্বজিতের মতো মানুষগুলো জনসংখ্যা শুমারীতে নিছক একটা অঙ্ক হিসেবে বেঁচে থাকে আর এমন রাজনৈতিক অপমৃত্যুতেও শুধু মৃতের ঘরে একটা বাড়তি টালির দাগ হয়ে মিলিয়ে যায়।

মিডিয়ার সমালোচনা

বিশ্বজিতকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার সময় প্রিন্ট এবং টিভি মিডিয়ার অনেক সংবাদকর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তারা কেউই বিশ্বজিতকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেননি। বরং সবাই সেই ঘটনার কভারেজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। বিষয়টি ফেসবুকে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছে।

মূর্তালা রামাত লিখেছেন:

একটা মানুষকে কোপানো হচ্ছে, মারতে মারতে মেরে ফেলা হচ্ছে আর সংবাদকর্মীরা ক্যামেরা নিয়ে ছবি তুলতে ব্যস্ত!রক্তাক্ত মানুষটার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ডাকারও সময় নাই! শেষ পর্যন্ত এগিয়ে আসতে হলো এক রিক্সায়ালাকে! প্রশ্ন জাগে সাংবাদিকতা কী মানবিকতার উর্ধ্বে উঠে গেলো নাকী!

অবরোধকারী এবং অবরোধবিরোধী দলের মধ্যে সংঘর্ষে যখন সাধারণ মানুষও মার খাচ্ছিল তখন ফটোগ্রাফার ও টিভি ক্যমেরা তাদের না বাঁচিয়ে ছবি তুলে যাচ্ছিল।ছবি ইব্রাহিমের। সর্বস্বত্ব ডেমোটিক্স (৯/১২/১২)

অলি সৈয়দ মাহবুব লিখেছেন:

… মঙ্গলবার ও হরতাল। আমাকে অফিসে যেতে হবে। পথচারী আমিও হবো। মিছিলের মাঝে পড়বো। ককটেল ফুটবে। ভয়ে দৌড় দিবো। তখন ছাত্রলীগ বা ছাত্রদল বা ছাত্র শিবির অন্য পক্ষের মনে করে আমাকেও এভাবে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে লাশ বানাবে।

২০টা টিভি চ্যানেলের ৪০ জন কর্মী, ২০টা নিউজ এজেন্সির ৪০ জন সাংবাদিক, অসংখ্য পুলিশ, অসংখ্য জনতা আমার মৃত্যুবরণ দৃশ্য দেখবে, ভিডিও করবে। ১০টা চাপাতিধারী পশুর বিরুদ্ধে ১০০ জন মানুষ দাঁড়াবে না। তারা ভিডিও করবে-হত্যা নিয়ে নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের কাটতি বাড়াবে। আমার মত অধমের মৃত্যুর মূল্য বেড়ে যাবে বহুগুণ।

একরামুল হক শামীম নিচের ছবি পোস্ট করে লিখেছেন:

পুরান ঢাকার জজকোর্ট এলাকায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে, রড দিয়ে পিটিয়ে, লাঠির বাড়িতে রক্তাক্ত করে মারা হয়েছে বিশ্বজিৎ দাসকে। বার বার সে চিৎকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবী করলেও তাকে রেহাই দেওয়া হয়নি। আশেপাশে এতো এতো মানুষ তা দেখছে, এতো এতো মিডিয়া ব্রেকিং নিউজের জন্য ফুটেজ সংগ্রহ করছে, এদের কেউ বিশ্বজিৎ দাসকে বাঁচানোর জন্য চেষ্টা করলো না!

Fire on vehicles

অবরোধের সময় বিএনপির নেতৃত্বে ১৮ দলীয় জোট কাঁচপুর ও নারায়নগঞ্জে গাড়ি পোড়ায়। ছবি ইব্রাহিমের। সর্বস্বত্ব ডেমোটিক্স (৯/১২/১২)

তবে একরামুল হক শামীমের পোস্টে সাংবাদিকদের সমালোচনার করার সমালোচনা করেছেন ফটো সাংবাদিক হাসান বিপুল:

কোনোমতেই একমত পোষণ করতে পারছি না শামীম। যার যা কাজ তারই সেটা করা উচিৎ। এই ছেলেটিকে রক্ষা করার প্রথম দায়িত্ব রাষ্ট্রের এবং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে রক্ষার প্রথম উদ্যোগটি আসা উচিৎ ছিল পুলিশের কাছ থেকে। মিডিয়ার কাজ জন নিরাপত্তা দেয়া নয়।

সাইকোসায়কা টুইট করেছেন:

@princess_saika: “তুই মানুষ, না সাংবাদিক?” – এই সময়ের জন্য একটা ভালো গালি হতে পারে এটা!

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .


বিশ্বের অঞ্চলসমূহ

দেশ

ভাষা

বিশেষ টপিক

লেখাটির সাথে আছে