GlobalVoices পাওয়া যাবে আরও জানুন »

হোমসঃ ধবংসের মুখে সিরীয় বিপ্লবের এক শহর

অনুবাদগুলোএই লেখাটি পাওয়া যাবে এই কয়টি ভাষায়:

Español · Homs: Una ciudad revolucionaria siria en ruinas
Français · Homs, ville révolutionnaire syrienne en ruines
Malagasy · Homs: Tantaran'ny Tanàna Syriana Revolisionera Rava
Italiano · Homs: storica città siriana oggi semi-distrutta
Ελληνικά · Συρία: Ερείπια στη Χομς της Επανάστασης
русский · Сирия: революционный город Хомс в руинах
عربي · حمص: على أطلال عاصمة الثورة السورية
简体中文 · 废墟中的霍姆斯:叙利亚的革命之城
繁體中文 · 廢墟中的霍姆斯:敘利亞的革命之城
English · Homs: A Revolutionary Syrian City in Ruins

এই প্রবন্ধটি সিরিয়া বিক্ষোভ ২০১১/১২ নিয়ে করা আমাদের বিশেষ প্রবন্ধের অংশ

সিরিয়ার যে সমস্ত অনেক শহর এবং মফস্বল আজ সংবাদের শিরোনাম হচ্ছে, তার মধ্যে হোমস অন্যতম, যে শহরের পত্তন হয়েছিল খ্রিস্টের জন্মের ২৩০০ বছর পূর্বে। মাসের পর মাস জুড়ে বোমা বর্ষণের ফলে সৃষ্ট প্রচণ্ড ধ্বংসের চিহ্ন বিনষ্ট ঐতিহাসিক ভবন ও স্থাপত্য, শত শত উদ্বাস্তু নাগরিক এবং হাজার হাজার ব্যক্তির শহীদ হওয়ার মত ঘটনার মাঝে দৃশ্যমান হচ্ছে।

ইতিহাসে হোমস

৪,৩০০ বছরের পুরোনো হোমস (খ্রিষ্টপূর্ব ২৩০০ সালে যেখানে প্রথম বসতি স্থাপন হয়) ঐতিহাসিকভাবে যে শহর এমেসা ( স্থানীয় সূর্যদেবের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একদল ব্যক্তি ছিল যার বাসিন্দা) নামে পরিচিত ছিল, সেটি বর্তমানে সিরিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম শহর এবং ব্রাজিলের বেলো হরিজোনটে শহরটি এই শহরের মত করে তৈরি করা। হোমসের বেশ কিছু ঐতিহাসিক স্থাপনা রয়েছে, যেমন খালিদ ইবিন আল-ওয়ালিদ মসজিদ, ছাদের উপর বাজার, এবং এই শহরটি বেশ কিছু ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সমৃদ্ধ এলাকা রয়েছে যেমন দি কারাক দে শেভেলিয়ার এবং সালাহ-এদ-দিন-এর দুর্গ, যা কিনা মধ্যযুগের তৈরি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত এক দুর্গ।

খুব সামান্য সংখ্যক ব্যক্তি হয়ত জানে যে উম আল জেনার চার্চের সম্পত্তি দি হলি বেল্ট অফ সেন্ট মেরি নামক চার্চ পঞ্চম শতকে ছিল সেন্ট এলিয়ান চার্চের সম্পত্তি যেখানে উক্ত সাধুর সমাধি রয়েছে।

সিরিয়ায় হোমসের-এর ক্ষতিগ্রস্ত (উম আল জেনার) দি হলি বেল্ট-এর সেন্ট মেরি চার্চ। সূত্রঃ আর্কায়েও লাইফ ব্লগ

ঐতিহাসিকভাবে হোমস মজার এবং বিচিত্র রহস্যের এক শহর। ডিসেম্বর ১২৬০ সালে হোমসের প্রথম যুদ্ধে হালাকু খান পরাজিত হয়েছিল। সিরিয়া এবং প্রাচ্যের অন্য সব শহরের মত মোঙ্গলরা হোমাস শহরে প্রবেশ করেনি। প্রবাদ আছে যে উচ্চ মাত্রায় পারদ থাকার কারণে হোমসের মাটিতে কাঁকড়াবিছা বেঁচে থাকতে পারে না। এই শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ওরেন্টাস নদী হচ্ছে সিরিয়ার একমাত্র নদী যা দক্ষিণপূর্ব দিক দিয়ে বয়ে যায়। আবার বলা যায়, হোমস শহরের রাস্তাগুলো প্রায় ভিক্ষুকমুক্ত, যা মূলত কিছু ভালো মানুষের প্রচেষ্টা এবং এখানকার সম্প্রদায়ের কার্যকর সমাজ সেবার পরিচালনার কারণে সম্ভব হয়েছে।

সিরিয়ার হোমস শহরের একটি দুষ্পাপ্য ভিডিও যা কিনা ইবন হোমস ইউটিবে শেয়ার করেছেন, যেখানে ১৮৮০ থেকে ১৯৫০ সালের বিভিন্ন ছবি প্রদর্শিত হয়েছে।

হামলার মুখে হোমস।

যদিও এই শহর সিরিয়াকে আত্তাসি পরিবার থেকে তিনজন রাষ্ট্রপতি প্রদান করেছে এবং এই শহর আসাদ–এর স্ত্রী ( আলখারাস) এর আদিবাস ছিল। হোমস হচ্ছে সিরিয়ার সেই সমস্ত নগরের মধ্যে প্রথম যার হাজার হাজার নাগরিক সিরিয়ার শাসকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শনে রাস্তায় নেমে আসে। আর এরপর থেকে হুমকির মুখে থাকা সিরিয়ায় ঐতিহাসিক এলাকাসমূহ রক্ষার আহ্বান সত্ত্বেও মাসের পর মাস জুড়ে এই শহরে ক্রমাগত বোমা বর্ষণ করা হচ্ছে, যার মধ্যে বাব আল দারিবে নামক ঐতিহাসিক এলাকাও রয়েছে । ইউটিউব ব্যবহারকারী সাইফ হুরিয়া ভেঙ্গে পড়া ভবন এবং জুরাত আলশিয়াহ এলাকার ব্যাপক ধ্বংসলীলার বিষয়ে সংবাদ প্রদান করেছেন [ইংরেজি ভাষায়।

টাম্বলারে, সল্ট এন্ড ফিলফিল একটি ছবি পোস্ট করেছে, যে ছবিতে ১৯৩০ থেকে ২০১২-এর মাঝে জুরাত আলশিয়াহর কেন্দ্রীয় এলাকার তুলনা করা হয়েছে।

আসাদ শাসনের পূর্বে ১৯৩০ সালে হোমস শহর। আসাদ-এর শাসনামলে ২০১২ সালে হোমস শহরের অবস্থা। সূত্রঃ টাম্বলারের সল্ট এন্ড ফিলফিল।

একই সাথে সিরিয়াঅস্ট্রেলিয়াটিভি ১১ অক্টোবর ২০১২-এ আলকাউসার-এর কেন্দ্রীয় এলাকা ধবংসের সংবাদ প্রদান করেছে ( ইংরেজিতে-এর সাবটাইটেল প্রদান করা হয়েছে )

সিরিয়াঅস্ট্রেলিয়াটিভি নামক সেই একই ব্যবহারকারী অন্য আরেকটি ভিডিওতে ৭ অক্টোবর, ২০১২-এ একটি রকেট হামলায় সৃষ্ট ব্যাপক ধবংসের দৃশ্য তুলে ধরছে।

শহীদ এবং উদ্বাস্তু

শাম নিউজ নেটওয়ার্ক বা এস.এন.এন-এর এক সংবাদ অনুসারে হোমসের উপর সংঘঠিত হামলায়-এর ৭,২০৪ জন নাগরিক শহীদ হয়েছে এবং শহরটির বেশীরভাগ বাসিন্দা তাদের ঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছে, সে সমস্ত ২০ লক্ষ নাগরিক উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছে। সিরিয়ার হাজার হাজার উদ্বাস্তু শিশু তীব্র শীতের মত এক ভয়াবহ হুমকির মুখে রয়েছে, বিশেষ করে যখন মধ্যপ্রাচ্যে শীত মৌসুম শুরু হয়েছে। সেফ দি চিলড্রেন নামক সংস্থা এই সমস্ত শিশুদের দেখাশোনায় সাহায্য করছে যারা:

এই সমস্ত শিশুদের প্রয়োজনীয় মৌলিক চাহিদা, যেমন খাবার এবং কম্বল তারা সরবরাহ করছে এবং এই বেদনাদায়ক ঘটনা টিকে থাকতে সাহায্য করার তাদের নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালন করছে। তবে প্রতিদিন সংঘর্ষের তীব্রতা উত্তরোত্তর বাড়তে থাকায় প্রেক্ষাপটে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু পালিয়ে যাচ্ছে এবং আমরা উদ্বাস্তু সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি যা ক্রমশ আরো খারাপের দিকে গড়াচ্ছে। দয়া করে আমাদের আজই দান করুন। এক সাথে মিলে আমরা সিরীয় আরো অনেক উদ্বাস্তু শিশু যে সমস্যার মাঝ দিয়ে যাচ্ছে তাদের তা মোকাবেলা করতে পারি, তাদের জীবনকে পুনরায় গড়তে পারি এবং এক নির্মম যুদ্ধের আতঙ্ক থেকে তাদের ফিরিয়ে আনতে পারি।

এই প্রবন্ধটি সিরিয়া বিক্ষোভ ২০১১/১২ নিয়ে করা আমাদের বিশেষ প্রবন্ধের অংশ

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .


বিশ্বের অঞ্চলসমূহ

দেশ

ভাষা

বিশেষ টপিক

লেখাটির সাথে আছে