বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

বাংলাদেশ: জীবনতরী- দরিদ্র মানুষের জন্য ভাসমান হাসপাতাল

বাংলাদেশে ১৬ কোটি মানুষের বেশিরভাগই বাস করে গ্রামে, নদীর খুব কাছাকাছিতে। ছোটবড় অসংখ্য নদী রয়েছে দেশজুড়ে। নদ-নদীর সংখ্যা প্রায় সাতশ’র মতো। এগুলো দক্ষিণে বয়ে গিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। আর এই নদীগুলোই ১৫ হাজার মাইলের দীর্ঘ নদীপথের নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে দৈর্ঘ্যের দিক দিয়ে যা বিশ্বের অন্যতম। এই নদীপথেই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসাসেবায় ডাক্তার, নার্স, ঔষধপত্র নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে একটি জাহাজ। এর নাম জীবনতরী। নামটি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা থেকে নেয়া।

ভাসমান হাসপাতাল হিসেবে জীবনতরী যাত্রা শুরু করে ১০ এপ্রিল ১৯৯৯ সালে। মুন্সিগঞ্জের মাওয়ায় নদীতীরে। দেশের নদীপাড়ে যেসব দরিদ্র মানুষ চিকিৎসাসেবা পান না, তাদের কাছে চিকিৎসাসেবা নিয়ে যাওয়াই ছিল জীবনতরী ভাসমান হাসপাতালের উদ্দেশ্য।

ডাক্তার, নার্স, ঔষধপত্র নিয়ে জীবনতরী নোঙর ফেলেছে প্রত্যন্ত অঞ্চলে। ছবি ইম্প্যাক্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের ফেসবুক পেজ এর সৌজন্যে।

ইম্প্যাক্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ নামের একটি সামাজিক সংস্থা এই প্রকল্পটি চালু করেছে। এটি ব্রিটেনের একটি সাহায্য সংস্থার শাখা, যারা উন্নয়নশীল দেশসমূহে বিকলাঙ্গ রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে থাকে।

জীবনতরী ভাসমান হাসপাতাল তিন ডেক বিশিষ্ট। এতে নেই কোনো যান্ত্রিক ইঞ্জিন। আর চালানো হয় দাঁড় টেনে। সব ধরনের আধুনিক সুবিধা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম এতে রয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষকে মেডিক্যাল এবং শৈল চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে এই ভাসমান হাসপাতালটি। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ৪০ বাই ১০ মিটার দৈর্ঘ্যের সার্জিক্যাল থিয়েটারের সাথে ৩টি অপারেশন টেবিল, ৩টি পোস্ট অপারেটিভ রুম, ১২ রুমের ওয়ার্ড, এক্সরে মেশিন, প্যাথলজি ল্যাবরেটরি, আউটপেশেন্ট ক্লিনিং রয়েছে। তাছাড়া ওপরের ডেকে থাকার ব্যবস্থা এবং অত্যাধুনিক ট্রেনিং সেন্টার রয়েছে। এছাড়াও ডাক্তার, নার্স, স্বেচ্ছাসেবী সার্জন এবং অন্যান্য সহযোগী কর্মচারিদের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। (সিএনএনএ প্রচারিত ভিডিও ক্লিপ দেখুন)।

মিতা বাংলাদেশের গ্রামের একটি গরীব ঘরের কন্যা। তার ঠোঁট কাটা রোগ ছিল। জীবনতরী ভাসমান হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সে ভালো হয়েছে। তার ভালো হবার গল্পটি হেলপ দ্য স্মাইল ব্লগ শেয়ার করেছেন:

One day he came to know from a medicine shop owner that there is a boat hospital somewhere where they are correcting this type of defect in gratis. [..] He got the location of Jibon-Tari, which was located at Chamrarghat of Kisoregonj district. Fazlul haque became upset again because it is so far, almost 500 kilometers from the place where he lived. Determined to try again fir his daughter, one morning he started his journey with his daughter for Chamrarghat.

The on duty doctor of Jiban Tari examined Mita and informed her father that she could be cured through surgery.. [..] The surgery was performed and stitches were removed after a week. Fazlul Haque was overjoyed when he saw the changed face of his beloved daughter.

মিতার বাবা একদিন একটি ঔষধের দোকানদারের কাছ থেকে ভাসমান হাসপাতালের কথা শোনেন। এও শোনেন এই হাসপাতালে না কি বিনামূল্যে এ ধরনের রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়। [...] তিনি জীবনতরী’র ঠিকানা জেনে নেন। সেটা তখন ছিল কিশোরগঞ্জ জেলার চামড়াঘাটে। ঠিকানা শুনে ফজলুল হক একটু হতাশ হন। কারণ, যায়গাটা ছিল তার বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরে। তিনি ঠিক করেন, মেয়েকে নিয়ে অতদূরেই যাবেন। একদিন সকালবেলা মেয়েকে নিয়ে তিনি চামড়াঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

মিতাকে পরীক্ষা করে জীবনতরী’র ডিউটি ডাক্তার তার বাবাকে জানায়, অস্ত্রপচার করলেই মিতা ভালো হয়ে যাবে। জীবনতরী’র ডেকেই মিতার শৈলচিকিৎসা হয়। এক সপ্তাহ পরে সেলাই কেটে দেয়া হয়। ফজলুল হক আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে উঠেন, দেখেন তার আদরের মেয়েটির চেহারাই পরিবর্তন হয়ে গেছে।

ডেকের ওপরে চলছে চিকিত্সা। ছবি ইম্প্যাক্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের ওয়েব পেজ এর সৌজন্যে।.

নার্স, সার্জন আর অ্যানেস্থেটিস্ট মিলে অসি বাংলা স্মাইল টিমটি গঠিত। তারা অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশে গিয়েছিল ঠোঁট কাটা, তালু কাটা রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার মিশন নিয়ে। টিমের সদস্যরা তাদের বাৎসরিক ছুটিতেই এই মিশনে গিয়েছিল, এমনকি বিমান ভাড়াটাও তারা নিজেরাই বহন করেছিল। তাছাড়া চিকিৎসার যন্ত্রপাতি সরবরাহের জন্যও তহবিল সংগ্রহে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

এই টিমের সদস্যরাই জীবনতরী হাসপাতালে ঠোঁট কাটা রোগের অপারেশন করে কিভাবে ছোট্ট মেয়ে মরিয়মের জীবন বদলে দিয়েছিল সেটাই লিখেছেন হাসান সারওয়ার:

Just after being born with a bilateral cleft lip and palate, baby Marium, perhaps only a day old, was abandoned on a public bus. She was discovered by some passengers, and then the police placed her in an orphanage in Mymensingh, Bangladesh.

A good friend [..] brought Marium to the Aussi Bangla Smile team at the Jibon Tari floating Hospital which was then about two hours travel from the orphanage. [..] At the time of her operation, Marium was nearly five months old. Due to her deformity, she was unable to eat properly. She was anaemic, malnourished, and weighed only 4kg.

The operation was performed by Dr Sarwar. Post-operative recovery was uneventful, and the next morning Marium looked very happy and began smiling which captured everyone’s hearts.

Team Leader Judy Barlow and the rest of the team were so moved that they decided to sponsor Marium up to the age of 10. Ten team members immediately donated AU$360 (27,720 Taka) for one year’s expenditure on milk and other needs.

ঠোঁট এবং তালু কাটা নিয়েই জন্ম নেয় মরিয়ম। সম্ভবত যখন তার বয়স ছিল একদিন তখন এক পাবলিক বাসে পরিত্যক্ত হিসেবে যাত্রীরা তাকে খুঁজে পায়। তারা তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। সেখান থেকে তার স্থান হয় ময়মনসিংহের একটি এতিমখানায়।

একজন সহৃদয়বান মানুষ [...] এতিমখানা থেকে দু’ঘণ্টান যাত্রায় মরিয়মকে নিয়ে জীবনতরীতে অসি বাংলা স্মাইল টিমের কাছে আসে। [...] অপারেশনের সময় মরিয়মের বয়স ছিল ৫ মাস। ঠোঁটের বিকলঙ্গতার কারনে সে ঠিকমতো খেতে পারতো না। পুষ্টিহীন এবং রক্ত স্বল্পতা ছিল তার এবং ওজন ছিল মাত্র ৪ কেজি।

তার অপারেশন করেছেন ডা. সারওয়ার। অপারেশনের পরে অতো তাড়াতাড়ি তার ভালো হওয়াটা ছিল সত্যি বিরল ঘটনা। অপারেশনের পরেরদিন সকাল থেকেই মরিয়ম বেশ হাসিখুশি ছিল। তার হাসি সবার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।

বিষয়টি টিম লিডার জুডি বারলো এবং টিমের অন্যান্য সদস্যদের আলোড়িত করে এবং তারা সিদ্ধান্ত নেন মরিয়মের ১০ বছর বয়স পর্যন্ত যাবতীয় খরচ বহন করবেন। টিমের ১০ সদস্য তখনই মরিয়মের দুধ এবং অন্যান্য খরচের জন্য প্রায় ২৭ হাজার টাকা দান করেন।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইতোমধ্যে জীবনতরী ভাসমান হাসপাতাল ৩৭৭,৪১৬ জন মানুষকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে। ৩১,০৯৯ জন রোগীকে অর্থোপেডিক্স, প্লাস্টিক সার্জারি, চক্ষু এবং নাক-কান -গলা চিকিৎসা দিয়েছে। বিভিন্ন ধরনের ৭০,৮৫৩টি প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। ১৯,০৯০ রোগীকে ইন্ট্রা অকুলার লেন্স এবং ৭,৫৪৮ রোগীকে ফিজিওথেরাপি দিয়েছে। তাছাড়া ৩৩৫,৩৮১ জনকে শারীরিক অক্ষমতা রোধ কিভাবে করা যায় সে বিষয়ে তথ্যসেবা দিয়েছে। ২,৩৭৬ টিবিএ-কে প্রসুতি ও নিরাপদ মাতৃত্ব বিষয়ে; ১,৮৪৯ হন এনজিও কর্মী, স্কুল শিক্ষক এবং কমিউনিটি লিডারদের পুষ্টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

আন্দ্রিনা স্কওয়াটজ এই ভাসমান সপাতাল দেখতে এসেছিলেন। হাসপাতাল ঘুরে তিনি ‘আশার তরী’ শিরোনামে ব্লগ পোস্ট করেন:

The floating hospital looks like any other three-story building when you see it from a distance. But as you get closer, you realize it’s not connected to land – it’s sitting in the middle of a river surrounded by rice patties. [..]

Jibon Tari will remain in its current location for 3-6 months. During that time, basic ailments will be healed, sight restored, clubbed feet repaired, and smiles will take the place of cleft lips. All of which will bring hope back to the people of rural Bangladesh.

দূর থেকে দেখলে ভাসমান হাসপাতালটিকে একটা তিনতলা বাড়ির মতো হবে। কিন্তু আপনি যখন কাছে আসবেন, তখন দেখবেন, এটা মাটির ওপরে নেই। নদীর মাঝামাঝিতে ভাসছে। [...]

জীবনতরী বর্তমান জায়গায় ৩-৬ মাস থাকবে। এই সময়ে প্রাথমিক চিকিৎসা, চক্ষু, পা ফোলা, ঠোঁট কাটা রোগের চিকিৎসা দিবে। আর এসব কিছুই বাংলাদেশের গ্রামের মানুষের বুকে আশা ফিরিয়ে আনবে।

1 টি মন্তব্য

  • Rashed Newar Basher

    “জীবন তরী” আমার দাদুকে বৃদ্ধ বয়সে ও স্বচ্ছ দৃষ্টি শক্তির অধিকারী করেছে||

আলোচনায় যোগ দিন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .