উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

দক্ষিণ/উত্তর কোরিয়ার পতাকা বিভ্রান্তি, অলিম্পিক ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে ভুল?

এই প্রবন্ধটি লন্ডন অলিম্পিক-২০১২ নিয়ে করা আমাদের বিশেষ কাভারেজের অংশ

২৫ জুলাই ২০১২ তারিখে যুক্তরাজ্যের গ্লাসগো শহরে অলিম্পিকের প্রমিলা ফুটবল প্রতিযোগিতায় উত্তর কোরীয় দলের খেলোয়াড়দের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় দুর্ঘটনাক্রমে উত্তর কোরিয়ার পতাকার বদলে দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকা প্রদর্শন করা হয়। এই বিভ্রান্তির ঘটনা আর্ন্তজাতিক প্রচার মাধ্যমে এক উন্মাদনার সৃষ্টি করে।

এই ভুলের ঘটনা উভয় দেশের জন্য অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল,যে দুটি দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব এবং উত্তেজনার এক দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। লন্ডন অলিম্পিক কমিটির সংগঠকদের বিনম্র ক্ষমাপ্রার্থনার প্রতিক্রিয়ায় দক্ষিণ কোরীয় নাগরিকরা বিষয়টিকে ঠাণ্ডা ভাবে মোকাবেলা করেছে, অন্যদিকে এই ঘটনায় উত্তর কোরীয় দল হোটেলে তাদের অবস্থান গোপন করে ফেলে

এই ভুলের কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে এবং এমনকি এটাকে অলিম্পিকের দীর্ঘ ইতিহাসে অন্যতম এক বাজে ভুল হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে, বিশেষ করে যখন উত্তর এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মাঝে কার্যত যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।

Flags of the two Koreas, the left side is the North Korean flag and the right side is the South Korean flag. Wikipedia Commons Images.

দুই কোরিয়ার জাতীয় পতাকা। বামে উত্তর কোরিয়ার এবং ডানে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় পতাকা। উইকিপিডিয়া কমন্স ইমেজ।

এই ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার টুইটারস্ফিয়ার তুলনামূলক শান্ত ভাবে প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করে। টুইটার ব্যবহারকারী @_ আমেলিয়ে লিখেছে [কোরীয় ভাষায়] যে যদিও মানবীয় ভুল বোধগম্য, তবে এটা পরিষ্কার ভাবে সংগঠকদের প্রস্তুতির ঘাটতির বিষয়টিকে তুলে ধরছে:

행사진행하면서 실수없이 완벽하게 진행하기란 어려운 일이지. 근데 북한선수들 경기에 태극기를 올리는건;; 이건 실수라기보다 준비부족 아닌가.

একটিও ভুল না করে, কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা খুবই কঠিন। তবে উত্তর কোরিয়ার খেলার সময় দক্ষিণ কোরিয়ার পতাকা প্রদর্শন করা…এটা ভুলের চেয়েও বেশী কিছু। আমি একে যথাযথ প্রস্তুতির অভাব বলে অভিহিত করব।

টুইটার ব্যবহারকারী @মিস্টওয়াইসি০০৭ মন্তব্য করেছে [কোরীয় ভাষায়] যে এ রকম একটি কার্য এমন এক ভুল যা অনেক বেশী সংবেদনশীল:

런던올림픽 여자축구 북한경기인데 태극기가 잘못나가는 실수를.. 아직 런던이 몸이 안풀려서 ㅋㅋㅋㅋ 그래도 민감한 부분을 …

আমি শুনেছি যে লন্ডন অলিম্পিকে, উত্তর কোরিয়ার মহিলা ফুটবল দলের খেলার সময় দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করা হয়। আমি মনে করি “ এটা অনুষ্ঠান আয়োজনের আগে সংগঠকদের প্রাক-প্রস্তুতির অভাবের বিষয়টিকে তুলে ধরছে। ওহ! কিন্তু ভুল করার জন্য এটা ছিল একটা বেশ সংবেদনশীল বিষয়”।

যদিও আন্তর্জাতিক প্রচার মাধ্যম এই ভুলের বিষয়ে চরম মনোভাব নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে, তবে দক্ষিণ কোরিয়ার অনেক নাগরিক এতে ততটা নাটকীয় ভাবে সাড়া দেয়নি। এই বিষয়ে @কে২০৫৩০১ তার অসন্তোষ প্রকাশ করেছে [কোরীয় ভাষায়]:

[...] 니네가 기권한다만다하는데 우리도 엄청 기분나쁘거든.

উত্তর কোরিয়ার অলিম্পিক দল বলছে যে তারা অলিম্পিক বয়কট করার কথা চিন্তা করছে, তবে প্রকৃতপক্ষে এতে আমরাও আঘাত পেয়েছি।

@ভয়েসঅফমি আশাবাদের সাথে এই বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করেছে [কোরীয় ভাষায়]:

[...] 뭐 하긴 통일되면 우리 태극기와 애국가를 사용할텐데 미리 사용하는 것도 나쁘진 않을 듯.

উত্তম…যদি দুই কোরিয়া একত্রিত হয়, তখন সম্ভবত আমরা আমাদের পতাকা এবং জাতীয় সঙ্গীত ব্যবহার করব। ঘটনা ঘটার আগেই এর ব্যবহার ততটা খারাপ নয়।

অনেক কোরীয় নাগরিক যারা এর আগেও দুই কোরিয়া নিয়ে পশ্চিমের বিভ্রান্তির শিকার হয়েছে, তারা সে রকম মুহূর্তগুলোকে স্মরণ করছে। টুইটার ব্যবহারকারী @আরবানকমিউন লিখেছে [কোরীয় ভাষায়]:

[...] 북한팀 항의로 1시간 정도 경기시작 지연. 남북한 헷갈려하던 영국인들이 연상된다. 전적으로 조직위 운영미숙

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উত্তর কোরীয় দলের দায়ের করা অভিযোগের কারণে খেলা শুরু হতে এক ঘন্টা দেরি হয়।আমি ওই সমস্ত ব্রিটিশ নাগরিকদের পরিপূর্ণ এক চিত্র দেখতে পাচ্ছি যারা উত্তর এবং দক্ষিণ কোরিয়া বিষয়ে বিভ্রান্ত হতে অভ্যস্ত। যাই হোক, এটা পুরোপুরি এক অব্যবস্থাপনা এবং সংগঠকদের এক ত্রুটি।

বিখ্যাত ফ্যাশান ডিজাইনার লি সান বোং, প্যারিস থাকা অবস্থায় মুখোমুখি হওয়া একই ধরনের অভিজ্ঞতার বিষয়ে টুইট করেছেন [কোরীয় ভাষায়]:

[...] 나는 1997년 아이엠 에프때 파리 전시회에서 내 부스에 북한 국기가 걸려서 놀라 주최측에 뛰어 갔던 기억이 새롭다.

১৯৯৭ সালে যখন আইএমএফ [ ইন্টারন্যাশনাল মনিটরি ফান্ড/আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল] দক্ষিণ কোরিয়াকে সাহায্য করছে, সেই সময় প্যারিসে আমার একটি চিত্রশিল্প প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় এবং আমার উক্ত প্রদর্শনী এলাকায় উত্তর কোরিয়ার পতাকা প্রদর্শন করা হয়। আমি এখনো তা ভালোভাবে স্মরণ করতে পারি যে, এতে আমি চমকে উঠি, দৌড়ে সংগঠকদের কাছে যাই [বিষয়টি সংশোধন করার জন্য ]

দক্ষিণ কোরিয়ার অজস্ত্র ব্লগার প্রায়শই বিদেশীদের দ্বারা দুই কোরিয়া নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তির মজাদার এবং বিচিত্র অভিজ্ঞতার কাহিনী তুলে ধরেছে। বিখ্যাত দক্ষিণ কোরীয় ব্লগার মাদাম প্যারিস সম্প্রতি এ রকম একটি কাহিনী পোস্ট করেছেন [ কোরীয় ভাষায়] যে, কি ভাবে তার ফরাসী শ্বশুর তাদের প্রতি সাক্ষাতে তাকে উত্তর কোরিয়ার মৃত স্বৈরশাসক কিম জং ইলের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে প্রশ্ন করতে।

এই প্রবন্ধটি লন্ডন অলিম্পিক-২০১২ নিয়ে করা আমাদের বিশেষ কাভারেজের অংশ

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .