উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

মালদ্বীপঃ সংঘর্ষে বিপর্যস্ত

বৃহস্পতিবার ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১২-এ, মালদ্বীপের রাজনৈতিক সঙ্কট কুৎসিত আকার ধারণ করে, যখন পুলিশ, সদ্য ক্ষমতা থেকে উৎখাত হওয়া রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ নাশিদের সমর্থকদের নির্মম ভাবে প্রহার করে এবং তাদের আহত করে, নাশিদের সমর্থকদের দাবী, এটা মালদ্বীপের প্রথম গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত এই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান, যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শন করার সময় এই ঘটনা ঘটে।

ছড়িয়ে পড়া এই দাঙ্গায়, নাশিদের সমর্থকরা বেশ কিছু থানায়, আদালত, স্থানীয় পরিষদ এবং অন্য অনেক সরকারি ভবনে আগুন দেয় এবং সেগুলো ধ্বংস সাধন করে। এই ঘটনায় বেশ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুলিশও আহত হয়েছে।

মালদিভিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টি ২০০৮ সালের মালদ্বীপের বহুদলীয় গণতান্ত্রিক নির্বাচনে বিজয়ী হয় এবং তাঁর ফলে নাশিদ দেশটির রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়, আজকে দিনের শুরুতে তার এক সভায় ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রপতি নাশিদ ঘোষণা প্রদান করেন যে মঙ্গলবারে তাকে বলপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা হয়

“নাশিদ বলেন, “আমরা আবার ক্ষমতায় ফিরে আসব। আমরা পিছিয়ে যাব না। আমি এই অভ্যুত্থান মেনে নেব না এবং মালদ্বীপবাসী জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করব।”

Police charge teargas on protesters. Image by anonymous photographer, used with permission.

পুলিশ, বিক্ষোভকারীদের উপর কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করছে। ছবি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফোটোগ্রাফারের, অনুমতি গ্রহণের মাধ্যমে প্রকাশিত।

নাশিদ এবং তার সমর্থকরা, রাজধানী মালে এক বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে এবং দ্বীপরাষ্ট্রের রাজধানীর মূল চত্বরে কাছে শিল্ডের আবরণে অবস্থান নেওয়া পুলিশের মুখোমুখি হয়, যা কিনা সামরিক এবং পুলিশ-বিভাগের প্রধান কার্যালয়ের খুব কাছে অবস্থিত। বিক্ষোভাকারীরা পুলিশের দিকে বোতল এবং পাথর ছুঁড়ে মারে, এদিকে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের দিকে কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে মারে। দুই দলের এই সম্মুখ লড়াই শেষে ভয়াবহ পুলিশি হামালায় পরিণত হয় এবং হামলার ফলে আহত রক্তাক্ত বিক্ষোভকারীদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য এবং নাশিদের দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাও রয়েছেন।

ফ্রিডমওয়াচএমভি, নিরাপত্তা বাহিনী এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘঠিত সংঘর্ষের এই ভিডিও পোস্ট করেছে

আরেকটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে পুলিশ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার পর এক সংসদ সদস্য এবং নাশিদকে এক দোকান থেকে টেনে বের করে আনছে। তাকে গ্রেফতার করা হবে কি না, এই নিয়ে পুলিশের সাথে এক বিতর্কের পর নাশিদকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ভিডিওটি প্রদর্শন করছে রক্তে মাখা একজন মানুষ বর্ণনা করেছে কিভাবে পুলিশ তাকে প্রহার করেছে
ইয়ামিন, মালেতে সংঘঠিত এই ঘটনার বিষয়ে ব্লগ করছেন:

আজকে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি নাশিদকে ছেড়ে দেবার পর, তার সমর্থকদের বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করার জন্য দাঁপিয়ে বেড়ানো পুলিশ বিভাগ নির্মম এবং সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা চালায়।

গতকালের অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি নাশিদকে জোর করে ক্ষমতাচ্যুত করার পর, আজ সকালে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়, যা কিনা তাঁর দল এমডিপির কর্মীদের শক্তি জোগায়, আর তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য কঠোর কৌশল ব্যব হার করা হয়, আমি নিজে যার প্রত্যক্ষদর্শী।

সর্বোচ্চ আদালত ভবনের কাছে অরকিড মাগু এলাকায় বাছবিচারহীন ভাবে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। দুইজন ব্যক্তিকে পেটানো হয় এবং এ্যাম্বুলেন্স এসে তাদের টেনে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার আগে পর্যন্ত তারা দীর্ঘ সময় নিথর হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকে।

এরপর আমি একটা পুলিশের জীপকে খুব দ্রুত বিক্ষোভরত জনতার দিকে এগিয়ে যেতে দেখি। একটা পুলিশের জীপ। একেবারে নিন্দাযোগ্য একটা কাজ।

Police brutality on protesters. Image by anonymous. used with permission.

বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশের নির্মমতা। ছবি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তির। অনুমতি গ্রহণের মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়েছে।

মজু নাইম শঙ্কা করছেন যে মালদ্বীপ কি সামরিক স্বৈরাতন্ত্রিক রাষ্ট্র পরিণত হতে যাচ্ছে কিনা:

যদি রাষ্ট্রপতি ওয়াহিদ নিজে এই আদেশ না দিয়ে থাকে, তাহলে আমরা খুব সহজেই ধারণা করতে পারি যে নিরাপত্তা বাহিনী নিজে এইভাবে দমন করা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার মানে হচ্ছে ঘটনাক্রমে আমরা সামরিক/ পুলিশের স্বৈরাতান্ত্রিক শাসনের যুগে প্রবেশ করেছি, যেখানে রাষ্ট্রপতি শাসন কেবল নামমাত্র।
মালদ্বীপ এক পুলিশী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।
মালদ্বীপের নাগরিকরা তাদের নিজেদের কাহিনি তুলে ধরার জন্য তিনটি হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেছে। সেগুলো হচ্ছে ;
১. #মালদ্বীপপুলিশস্টেট
২. #এমভিপ্রটেস্ট
৩. #এমভিক্যু

রাজধানীর ঘটনার প্রতিক্রিয়া, নাশিদের সমর্থকরা অন্য জেলায় দাঙ্গার সূচনা করে। তারা থানায় আগুন দেয়, দায়িত্বরত পুলিশদের উপর পাথর ছোঁড়ে এবং আদালত এবং বেশ কিছু সরকারি ভবন জ্বালিয়ে দেয়। বেশ কয়েকটি দ্বীপে তারা পুলিশদের থানা থেকে তাড়িয়ে দেয় এবং থানা দখল করে নেয়।

মালদ্বীপবাসী এবং বিদেশী নাগরিকরা, নতুন করে শুরু হওয়া সংঘর্ষ সম্বন্ধে টুইট করেছে, যা কিনা অবসর কাটানোর জন্য স্বর্গ বলে পরিচিত এই দ্বীপটিকে গ্রাস করেছে।

ফোরাম দিভরানিয়া টুইট করেছে:

মালদ্বীপে শান্তি আসুক … রাজনীতি এবং সংঘর্ষের জন্য মালদ্বীপ বড় বেশী সুন্দর।

নাত্তু টুইট করেছে:

@ রিয়ালিনাত্তু: “ @হিশরেম: আমি কোন রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করি না। আমি মালদ্বীপকে সমর্থন করি, যার মধ্যে আমি নিজেও রয়েছি!

মঙ্গলবারে পুরো দ্বীপরাষ্ট্রটি বিস্ময়কর ভাবে শান্ত ছিল, কারণ নাগরিকরা শঙ্কিত ছিল যে আগামীতে দেশটির ক্ষেত্রে কি ঘটতে যাচ্ছে। এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ এবং সামরিক বাহিনীর প্রধান এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এই ধরনের আদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে এবং তারা প্রতিশ্রুতি প্রদান করে যে আগের দিনের সংঘর্ষের ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করা হবে।

নিজ বাস ভবনে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় নাশিদ বলেন যে সামরিক বাহিনীর বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা, তার শাসনের বিরুদ্ধে পুলিশ বিদ্রোহের প্রেক্ষাপটে তাকে জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করে। নিজ বাস ভবনে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় নাশিদ বলেন যে সামরিক বাহিনীর বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা, তার শাসনের বিরুদ্ধে পুলিশ বিদ্রোহের প্রেক্ষাপটে তাকে জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করে। তিনি নতূন এক নির্বাচনের দাবী জানিয়েছেন এবং ক্ষমতায় ফিরে আসার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন ও নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন যে, রাস্তায় রাস্তায় দাঙ্গা সংঘঠিত করে তাঁর ক্ষমতা দখল করার কোন ইচ্ছে নেই। একই সাথে বিভিন্ন দ্বীপে তার সমর্থকরা যে ভাঙ্গচুর চালায়, তিনি তারও নিন্দা জানিয়েছেন।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .