নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আয়োজিত এক প্রচারণার ১৬ দিন

প্রচারণার ওয়েবসাইট থেকে।

সাধারণ নির্যাতন এবং বিশেষ করে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে গ্রহণ করা কার্যক্রমকে উৎসাহ প্রদানে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক রটজার্স ইউনিভার্সিটি, দি সেন্টার অফ ওমেন্স গ্লোবাল লিডারশীপ (সিডাব্লিউজিএল), ১৬ দিনের এক প্রচারণা সূচনা করে, যার শিরোনাম “গৃহ শান্তি থেকে বিশ্ব শান্তিতে”। ২৫ নভেম্বরে শুরু হওয়া এই প্রচারনায় অংশ গ্রহণকারীরা “পদ্ধতিগত লিঙ্গ-ভিত্তিক নির্যাতন ও সামরিকীকরণের বিষয় উল্লেখ করবে, যা অসমতা এবং বৈষম্যে উৎসাহ প্রদান করে”।

গ্লোবাল ভয়েসেস অনলাইনও এই প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেছে। আমরা সমাজে এবং নারীর প্রতি যে নির্যাতন, সারা বিশ্বের সোশ্যাল মিডিয়ায় সে সব কাহিনী প্রকাশ করব, এবং সেখানে এই নিয়ে বিতর্কে এবং আলোচনায় যোগ দেব।

একই সাথে এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য হচ্ছে এই তথ্যের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি করা যে বিশ্বের বেশীর ভাগ সরকার শিক্ষা, বৈষম্য এবং জনগণের জন্য নিরাপদ স্থান তৈরীর বদলে অস্ত্র কেনার জন্য নিবেদিত যাকে তারা আরো জরুরী এবং গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। আন্তর্জাতিক এক সংগঠন নারীর প্রতি সহিংসতাকে গণস্বাস্থ্য এবং মানবাধিকার রক্ষার বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করা সত্ত্বেও,আন্তর্জাতিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে এই বিষয়ের প্রতি অনেক কম গুরুত্ব প্রদান করা হচ্ছে, আর বিষয়টি ক্রমশ উদ্বেগজনক ভাবে কমে আসছে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে:

নারীর প্রতি যে সহিংসতা-বিশেষ করে ঘনিষ্ঠ সঙ্গীর দ্বারা ঘটা নির্যাতন- তা গণ স্বাস্থ্যের জন্য এক প্রধান সমস্যা এবং নারীর মানবাধিকার লঙ্ঘন।

সাম্প্রতিক বিশ্বের সামগ্রিক তথ্য নির্দেশ করছে যে বিশ্ব জুড়ে ৩৫ শতাংশ নারী তাদের জীবনে কোন না কোন ভাবে হয় ঘনিষ্ঠ সঙ্গী অথবা সঙ্গী নন এমন ব্যক্তির দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়।

গড়ে ৩০ শতাংশ নারী, যারা কোন ভাবে কোন পুরুষের সাথে সম্পর্কযুক্ত, তারা জানান যে তাদের বেশ কয়েক ধরনের শারীরিক অথবা যৌন নির্যাতনের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

বিশ্বে যে সমস্ত নারী খুন হয়, তাদের ৩৮ শতাংশ তার ঘনিষ্ঠ সঙ্গীর হাতে নিহত হন।

নির্যাতনের ফলে শারীরিক, মানসিক, যৌনতা, সন্তান ধারণে জটিলতা এবং অন্য স্বাস্থ্যগত সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে এবং তা এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

এই ক্ষেত্রে যে সমস্ত বাজে বিষয়গুলো ঝুঁকি তৈরী করতে পারে সেগুলো হচ্ছে স্বল্প পরিমাণ শিক্ষা গ্রহণ, শিশুর প্রতি বাজে আচরণ-এর প্রকাশ অথবা পরিবারিক সহিংসতার সাক্ষী হওয়া, মাদকের ক্ষতিকর ব্যবহার, সহিংসতা এবং লিঙ্গীয় বৈষম্যকে গ্রহণ করার মনোভাব।

ঘনিষ্ঠ সঙ্গী নির্যাতনের শিকার হওয়া এবং যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার ক্ষেত্রে যে সমস্ত ঝুঁকি, তার মধ্যে যুক্ত রয়েছে সামান্য পরিমাণ শিক্ষা লাভ,সঙ্গীর মধ্যে সংঘঠিত নির্যাতনের সাক্ষী হওয়া, শৈশবে নির্যাতিত হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পাওয়া এবং নির্যাতন এবং লিঙ্গীয় বৈষম্যের মত বিষয়কে গ্রহণ করা।

উচ্চ আয় সম্পন্ন বাস্তবতায়, তরুণ দম্পতিদের (অথবা ডেটিং-এ) মাঝে সংঘঠিত নির্যাতন প্রতিরোধে কিছু প্রমাণ কিংবা কার্যকারিতা সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ করা।

নিম্ন আয়ের ক্ষেত্রে,অন্য সকল বিষয়ের সাথে প্রাথমিক প্রতিরোধের কৌশল হচ্ছে, ক্ষুদ্রঋণ প্রদানের সাথে সাথে লিঙ্গীয় সমতার প্রশিক্ষণ প্রদান এবং যোগাযোগ ও সম্পর্ক উন্নয়ন দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রতিশ্রুতি বজায় রাখা।

সংঘর্ষজনিত পরিস্থিতি,উক্ত পরিস্থিতি পরবর্তী সময় এবং এর ফলে ঘর থেকে বের হয়ে যাওয়ার মত ঘটনা হয়ত বিদ্যমান নির্যাতন আরো বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং নারীর বিরুদ্ধে আরো নির্যাতন বয়ে আনতে পারে।

কৌশল আরো বিস্তৃত করা এবং বিভিন্ন দলকে এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসের (১০ ডিসেম্বর) সাথে লিঙ্গ ভিত্তিক নারী নির্যাতন বন্ধে এক আন্তর্জাতিক দিবস-এর সূচনা করা হয়েছে (ডিসেম্বর ১০):

আন্তসামাজিক শ্রেণী সম্পর্কে বয়স, শ্রেণী, লিঙ্গ এবং ভৌগলিক অবস্থান, বর্ণ/জাতি, ধর্মীয় সংযুক্ত থাকা, অন্য সব শ্রেণীর ক্ষেত্রে যৌনতার অভিজ্ঞতা লাভের বিষয়টির বিশ্লেষণ ধারণা প্রদান করে যে কি ভাবে নারীরা এই সকল অভিজ্ঞতা লাভ করে এবং নির্যাতন, অসমতা এবং বৈষম্যের প্রতি সাড়া প্রদান করে। উপরোক্ত শ্রেণীর মাধ্যমে নারীর মাঝে যে যোগাযোগের ঘটনাটি ঘটে এবং রাষ্ট্রের সাথে নাগরিকের সম্পর্কের মাধ্যমে রাষ্ট্র এতে যে ভাবে সাড়া দেয় তার দ্বারাও নারীরা প্রভাবিত হয়। […] নারী নির্যাতন মুক্ত সামগ্রিক এক বিশ্বের দিকে এগিয়ে যাওয়া, যেখানে সকলে ভয় থেকে মুক্ত এবং সে রকম এক বিশ্ব তারা চায়, এমনকি তার এর অংশ হতে, আর এটাই হচ্ছে মানবাধিকার-এর ক্ষেত্রে সামগ্রিক স্বীকৃতি প্রদান, আর নারী অধিকার হচ্ছে মানবাধিকার।

এই আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ তিনটি কাজের ক্ষেত্র বেছে নিয়েছেঃ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের দ্বারা সংঘঠিত নির্যাতন, ঘনিষ্ঠ সঙ্গীর নির্যাতনের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র অস্ত্রের বিস্তার এবং সম্পর্কের মাঝে তৈরী হওয়া সংঘর্ষের সময় অথবা পরে যৌন নির্যাতন। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে, সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য এই আন্দোলনের পাতা ভিন্ন ভিন্ন কৌশল গ্রহণের পরামর্শ প্রদান করছে এবং ওই সমস্ত নির্যাতনের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অংশ নেওয়ার পরামর্শ প্রদান করছে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .