মায়ানমার: সামরিক শাসক চক্র সমর্থিত দলের জয়লাভ-সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে

২৫ বছর পর মায়ানমারে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল এবং যেমনটা আশা করা হয়েছিল সামরিক শাসক সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি এন্ড ডেভলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) সংসদে ৮০ শতাংশের বেশী আসন লাভ করেছে। কিন্তু বিরোধী দল দাবী করেছে যে, নির্বাচনের ফল নিয়ে কারচুপি করা হয়েছে।

দি ইরাওয়াদ্দিতে কাইওয়া জাওয়া মোয়ে নির্বাচনের দিন কি ঘটেছে তার এক সারসংক্ষেপ প্রদান করছে।

রোববারের এই নির্বাচনে সামরিক সরকারের ২৭ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সকলেই জয় লাভ করেছে।

অবশ্যই এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী থিয়েন সিয়েন রয়েছেন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী নিয়ান উইন তার নির্বাচনী এলাকা থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেছেন, কারণ তার কোন প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। সামরিক শাসক দলের ৫২ জন প্রার্থীর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে, যারা ইউনাটেড সলিডারিটি এন্ড ডেভলপমেন্ট পার্টির (ইউএসডিপি) প্রার্থী। আগামী মাসগুলোতে আপনারা দেখতে পাবেন এইসব মন্ত্রীর অনেকের দ্বারা নতুন সরকার গঠিত হচ্ছে ।

নির্বাচনের ফলাফলকে পক্ষে আনার জন্য “জোকার ভোট” নামে পরিচিত ভোটের ব্যবহার করা হয়েছে।

সংবাদে প্রকাশ ইউএসডিপি সংসদের ৮২ শতাংশ আসন লাভ করেছে। এতে বিস্ময়ের কিছু নেই। আমরা বার বার বলে এসেছি থান শুয়ে এবং তার দল ভোট কারচুপি করবে। যে সমস্ত গণতন্ত্রপন্থী এবং ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে তারা জানত যে ইউএসডিপি নির্বাচনে ভোট কারচুপি করবে। তবে যতটা আশা করা হয়েছিল, ব্যাপারটা তারচেয়ে খারাপ হয়েছে।

ইউএসডিপি আগে ভোট প্রক্রিয়াকে উপহাস করেছে। প্রত্যক্ষদর্শী এবং দলের নেতারা বলছে যে আগে ভোট দেবার বিষয়টি সেখানে কাজে লেগেছে, যেখানে মনে হচ্ছিল ইউএসডিপির প্রার্থী পরাজয়ের শঙ্কায় পরে যাচ্ছিল। রেঙ্গুনে তারা আগে ভোট দেবার প্রক্রিয়াকে “জোকার ভোট” বা ভাঁড়ামো পূর্ণ ভোট বলে অভিহিত করেছে।

এ ধরনের নির্বাচন লজ্জার বিষয় এবং জান্তা ভোটের ফলাফলকে নিয়ন্ত্রণ করবে এই বিশ্বাসে গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের নেত্রী সরকারে বিরুদ্ধে বিরোধিতার প্রতীক অং সান সু কি নির্বাচন বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ডেমোক্রেটিক ভয়েস অফ বার্মা এক নির্বাচনী মানচিত্র তৈরি করেছে, যাতে প্রতারণা, হানাহানি এবং নির্বাচনী প্রতিবাদ পর্যবেক্ষণ করা যায়।


হেশাং খিও ফাহ, শান হেরাল্ডের জন্য লিখে থাকেন। কি ভাবে শান প্রদেশের এক প্রশাসনিক প্রার্থী ভোটের সময় কি ধরনের আচরণ করেছে, তিনি তার বর্ণনা করেছেন।

কিওয়া মিইন্ট ( নির্বাচনে দাঁড়ানো এক প্রার্থী) তার নির্বাচনী এলাকায় ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের ১০,০০০ কিয়াট (১০ মার্কিন ডলার) প্রদান করেছে। যে সমস্ত ভোটার টাকা পেয়েছে তারা ভোটকেন্দ্র থেকে বিস্তৃত হাসি নিয়ে বের হয়েছে এবং আমাদের টাকা দেখিয়ে বলেছে যে ভোটকেন্দ্রে তারা লটারি পেয়েছে।

কিওয়া মিইন্ট, অন্য এক এলাকা থেকে ৫০০ ব্যালট পেপার বা ভোটের কাগজ নিয়ে আসতে এবং গণনার জন্য সেগুলোকে বাক্সে ভরার কথা বলেছিল।

“নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্র পাহারা দেবার জন্য সে ৮০ জন সশস্ত্র আধাসামরিক বাহিনীর লোক নিয়ে আসে”।

এই সমস্ত সাক্ষ্য এবং পর্যবেক্ষণ দি নিউ লাইট অফ মায়ানমারে প্রকাশিত সরকারি বিবৃতির বিপরীত কথা বলছে। পত্রিকাটি যোগ করেছে, যে সরকার দাবি করছে যে ২০১০ সালের বহু দলীয় গণতান্ত্রিক নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হয়েছে এবং পর্যবেক্ষণে আসা কূটনীতিবিদ এবং সাংবাদিকরা জনতার স্বাধীন এবং আনন্দের সাথে ভোট প্রদান এবং তারা ভোট কেন্দ্রে ভোট গণনার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছে।

তারা স্থানীয় জনতাকে স্বাধীনভাবে এবং আনন্দের সঙ্গে ভোট দিতে দেখেছে, ভোট কেন্দ্রের নির্ধারিত ফর্মের ব্যবহারের মধ্যে দিয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ভোট গণনা এবং সেগুলোর তালিকা করতে দেখেছে।

নির্বাচনের দিনও লড়াইয়ের সূত্রপাত ঘটে, যখন সরকারি সৈন্যরা ডেমোক্রেটিক কারেন বুদ্ধিস্ট আর্মি নামক দলের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এই লড়াই ১৭,০০০ –এর বেশী লোককে সরে যেতে বাধ্য করে, যারা থাইল্যান্ড সীমান্তের কাছে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয়ের অনুসন্ধান করছে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .