বন্ধ করুন

গ্লোবাল ভয়েসেসকে শক্তিশালী করতে আমাদের সহায়তা করুন

আমরা ১৬৭টি দেশের উপর রিপোর্ট করি। আমরা ৩৫টি ভাষায় অনুবাদ করি। আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস।

প্রায় ৮০০ এর বেশী গ্লোবাল ভয়েসেস এর লেখক একসাথে কাজ করছে আপনার কাছে অজানা সব গল্প তুলে ধরতে। কিন্তু আমাদের পক্ষে একা সব করা কঠিন। আমাদের অনেকেই স্বেচ্ছাসেবক হলেও আমাদের সম্পাদক, প্রযুক্তি এবং অ্যাডভোকেসী প্রকল্প ও সামাজিক অনুষ্ঠানের ব্যয়ভারের মেটানোর জন্যে আপনাদের সাহায্য প্রয়োজন।

আমাদের সহায়তা করুন এখানে ক্লিক করে: »
GlobalVoices পাওয়া যাবে আরও জানুন »

বিজয় দিবসে বিশ্ব রেকর্ড গড়লো বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত এবং পতাকা

এ বছর বিজয় দিবসে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বিশ্বের সর্ববৃহৎ মানব জাতীয় পতাকা তৈরি করা হয়। ছবি ইন্দ্রজিৎ ঘোষের।

এ বছর বিজয় দিবসে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বিশ্বের সর্ববৃহৎ মানব জাতীয় পতাকা তৈরি করা হয়। ছবি ইন্দ্রজিৎ ঘোষের। সর্ব স্বত্ব ডেমোটিক্স (১৬/১২/২০১৩)

গত ১৬ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে মুক্তিযুদ্ধের ৪৩তম বিজয় বার্ষিকীতে দু'টি বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। প্রথমটি বিশ্বের সবচে’ বড়ো ‘মানব পতাকা’ তৈরি করে। এই পতাকা তৈরি করতে ২৭ হাজার একশ ১৭ জন স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার শের-ই-বাংলা নগরে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে এই পতাকা তৈরির আয়োজন করা হয়েছিল। ৬ মিনিট ১৬ সেকেন্ড সময় পতাকা দৃশ্যমান ছিল।

দ্বিতীয় রেকর্ডটি হলো, ৩ লাখের বেশি মানুষের অংশগ্রহণে জাতীয় সংগীত গাওয়া। ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিকেল ৪টা ৩১ মিনিটে এটি আয়োজন করা হয়েছিল যেখানে বাংলাদেশ এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ যোগ দেয় একসাথে গান গাওয়ার জন্যে। উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই এই সময়ে আত্মসমর্পণ করেছিল।

মাহবুব আশরাফি এই সমবেত সঙ্গীতের পর্বটি ক্যামেরায় ধরেছেন এবং ইউটিউবে তুলে দিয়েছেন:

অংশগ্রহণকারীদের দিক থেকে জাতীয় পতাকা তৈরিতে এর আগের রেকর্ড ছিল পাকিস্তানের। ২০১২ সালের ৩১ অক্টোবর লাহোর হকি স্টেডিয়ামে ওই মানব পতাকার অংশ হয়েছিলেন ২৪ হাজার ২০০ পাকিস্তানি। আর জাতীয় সংগীতের ক্ষেত্রে এর আগের রেকর্ড ছিল ভারতের। ২০১৩ সালের ৬ মে ভারতের লখনৌতে জাতীয় সংগীত গাওয়ার জন্য ১ লাখ ২১ হাজার ৬শ’ ৫৩ জন ভারতীয় জড়ো হয়েছিলেন।

বিজয় দিবসে লাখো লোক জড়ো হয়েছিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমবেতভাবে জাতীয় সঙ্গীত গাইবার জন্যে। ছবি মামুনুর রশীদের।

বিজয় দিবসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাখো লোক জড়ো হয়েছিল সমবেতভাবে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে। ছবি মামুনুর রশীদের। সর্বস্বত্ব ডেমোটিক্স (১৬/১২/২০১৩)

বিজয় দিবসে এরকম বিশ্ব রেকর্ডের মালিক হওয়ায় খুশি এবং গর্ব বোধ করেছেন দেশের বেশিরভাগ মানুষ। তারা আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

ইশতিয়াক আহমেদ অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে বিশ্বজয় করার আশা ব্যক্ত করেছেন:

শেখ শোয়েব হোসেন এই মানব পতাকা তৈরীর বিভিন্ন পর্যায় ক্যামেরায় ধারণ করেছেন এবং ইউটিউবে আপলোড করেছেন:

দুটি রেকর্ড করায় বাংলাদেশী হিসেবে গর্ব নিয়ে আবীর হাসান (@Abir107) টুইট করেছেন:

বিশ্বের সবচে’ বড়ো মানব পতাকা এবং সবচে’ বেশি মানুষ নিয়ে জাতীয় সংগীত গাওয়ার রেকর্ড এখন বাংলাদেশের। একজন বাংলাদেশী হিসেবে গর্ব বোধ করছি।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩০ লাখ মানুষ প্রাণ দিয়েছিলেন। গণহত্যার দিক দিয়ে এটাও একটা রেকর্ড। সাইবার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এই দুটি রেকর্ডের সাথে সেটার কথাও স্মরণ করেছেন:

গিনেস বুকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মানব পতাকার কথা আজ অনেকেই্ ইতোমধ্যে জেনে গেছেন।

আমি আরো একটি তথ্য দেই – গিনেস বুক অব রেকর্ডস অনুযায়ী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংগঠিত গণহত্যা বিশ শতকে সংগঠিত হওয়া নৃশংসতম পাঁচটি গণহত্যার মধ্যে একটি ।

কার্টেছিঃ Akm Sayeed

বিকাল ৪:৩১ মিনিটে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনেকে জাতীয় সঙ্গীত গাইছেন। ছবি ইন্দ্রজিৎ ঘোষের।

বিকাল ৪:৩১ মিনিটে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনেকে জাতীয় সঙ্গীত গাইছেন। ছবি ইন্দ্রজিৎ ঘোষের। সর্ব স্বত্ব ডেমোটিক্স (১৬/১২/২০১৩)

দীর্ঘ নয় মাস মুক্তিযুদ্ধ করে পাকিস্তানীদের হারিয়ে দিয়েই বাংলাদেশ স্বাধীনতা পেয়েছিল। আর এবার মানব পতাকা তৈরিতে পাকিস্তানীদের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে বাংলাদেশ।

ব্লগার মারুফ লিখেছেন:

সবচেয়ে বেশি ভালো লাগছে যে, এই মহান বিজয় দিবসে আমরা পাকিস্তানের গড়া রেকর্ড ভেঙ্গে বিশ্বজয় করলাম। পাকিস্তানকে আমরা আরও একবার পরাজিত করলাম।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় সংগীত গাওয়ার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন ফারহান বাশার। তিনি তার সেই অসাধারণ অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন:

What a pleasant feeling bestows on my heart as I sing our enchanting national anthem and declare my unity with the positive force of independence & victory loving people of my country. May all the independent & liberation opposing forces go and burn in inferno.

মন্ত্র মুগ্ধের মতো জাতীয় সংগীত গাওয়া আমার কাছে সত্যিই এক অনন্য প্রাপ্তি। আমি আমার দেশের সকল স্বাধীনতাপ্রেমী মানুষের ইতিবাচক শক্তির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করলাম। স্বাধীনতাবিরোধী সকল অপশক্তি নরকের আগুনে পুড়ে মরুক।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .


বিশ্বের অঞ্চলসমূহ

দেশ

ভাষা

বিশেষ টপিক

লেখাটির সাথে আছে