বন্ধ করুন

গ্লোবাল ভয়েসেসকে শক্তিশালী করতে আমাদের সহায়তা করুন

আমরা ১৬৭টি দেশের উপর রিপোর্ট করি। আমরা ৩৫টি ভাষায় অনুবাদ করি। আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস।

প্রায় ৮০০ এর বেশী গ্লোবাল ভয়েসেস এর লেখক একসাথে কাজ করছে আপনার কাছে অজানা সব গল্প তুলে ধরতে। কিন্তু আমাদের পক্ষে একা সব করা কঠিন। আমাদের অনেকেই স্বেচ্ছাসেবক হলেও আমাদের সম্পাদক, প্রযুক্তি এবং অ্যাডভোকেসী প্রকল্প ও সামাজিক অনুষ্ঠানের ব্যয়ভারের মেটানোর জন্যে আপনাদের সাহায্য প্রয়োজন।

আমাদের সহায়তা করুন এখানে ক্লিক করে: »
GlobalVoices পাওয়া যাবে আরও জানুন »

বাংলাদেশঃ মিস কল- প্রতিবাদের এক মাধ্যম?

উন্নয়নশীল বিশ্বে বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া, ফিলিপাইনস এবং আফ্রিকার বিশাল অংশে ইচ্ছাকৃত মিস কল টাকা অথবা মোবাইল মিনিট বাঁচানোর ব্যাপক ব্যবহৃত এক উপায়। এটা দরিদ্রের প্রয়োজনীয় এক টেক্সট মেসেজ, বিনে পয়সায় কারো মনোযোগ আকর্ষণ করার এক উপায়। একটি বাটন চেপে মিস কল প্রদান করার এমনকি একটি এপসও সহজলভ্য।

একটি রিপোর্ট ধারণা প্রদান করছে যে, প্রতি ঘন্টায় যে পরিমাণ মিস কল প্রদান করা, তা গ্রামীণফোনের মোট ট্রাফিকের ৭০ শতাংশ, যা কিনা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল টেলিযোগাযোগ সংস্থা। অর্থনৈতিক পরিমাপে লাভ অর্জনের জন্য বাংলাদেশের মোবাইল কোম্পানিগুলো গত দশকে তাদের প্রায় ৯০ শতাংশ কলরেট কমিয়েছে। কিন্তু মোবাইল ইন্টারনেটের মূল্য কমানো হয়নি।

ছবি কাহিলের। সিসি বাই-এনসি–এনডি

এখন দেখা যাচ্ছে মিস কলের আরেক ধরনের ব্যবহার হচ্ছে। ভারতে এর উপর ভিত্তি করে অনেকে ব্যবসা আবিস্কার করছে এবং বাংলাদেশে একে প্রতিবাদের এক মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। ফেসবুকের এক কার্যক্রম [বাংলা ভাষায়], যার শিরোনাম ” মিস কল: আমাদের প্রতিবাদের এক মাধ্যম”, এটি বাংলাদেশের দুই ফেসবুক ব্যবহারকারী, সিডেটিভ হিপনোটিকস এবং দুর্যোধন তৈরি করেছে। একটি দীর্ঘ পোস্টে তারা এর পেছনের কাহিনী তুলে ধরেছে:

২০০৬ সালে যখন বাংলাদেশ যুক্ত হলো এর SEA-ME-WE-4 কেবলে ব্যান্ডউইডথের দামও তখন ছিলো অবিশ্বাস্য রকমের বেশী – প্রতি মেগাবিট ব্যান্ডউইডথের দাম ছিলো ৮০০০০ হাজার টাকা,ইন্টারনেট তখনো তরুনদের হাতে সহজলভ্য হয় নি, গনমানুষের কাছেও না। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতি মেগাবিট ব্যান্ডউইডথের দাম কমিয়ে দেন ২৭০০০ টাকায় । এর পরপরই ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের’ প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার। ইন্টারনেট সার্ভিস তৃনমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেবার প্রত্যাশায় তারা এক এক ধাপে ব্যান্ডউইডথের দাম কমানো শুরু করে। ২৭০০০ টাকা থেকে তারা ২০০৯ সালে প্রতি মেগাবিট ব্যান্ডউইডথের দাম কমিয়ে আনে ১৮০০০ টাকায়, পরবর্তীতে ২০১২ সালে আবারো কমিয়ে আনে ৮০০০ টাকায়। একইসাথে পরবর্তীতে প্রতি মেগাবিট ব্যান্ডউইডথের দাম ৮০০০ থেকে ৫০০০ টাকায় নামিয়ে আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে BTRC

তারা প্রশ্ন করেছে, গ্রাহক কি আদৌ মূল্য কমানোর সুবিধা পাচ্ছে:

আপনাদের মনে থাকার কথা, ২০০৬ সালে EDGE সার্ভিস চালু করা গ্রামীনফোনের ইন্টারনেট খরচ এখনো সেই আগেরমতই আছে। ২০০৯ সালের ১ জিবি ইন্টারনেটের প্যাকেজের দাম এখনো ৩৫০ টাকাই আছে ।এর মাঝে সরকার ঠিকই দুই দফায় দাম কমালেও তারা কমায় নি । একই কথা খাটে বাংলালিংক,এয়ারটেল,রবি সহ অন্যান্য অপারেটরদের ক্ষেত্রেও। [..] আপনারা খেয়াল করুন, প্রতি ১০ মেগাবাইট ইন্টারনেটের প্যাকেজ এয়ারটেলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ১০ টাকা (ভ্যাট ছাড়া)পড়বে , অথচ একই কোম্পানী ভারতে (টুজি নেটওয়ার্কে) ১০ রুপীতে (বাংলাদেশী ১৪.৮০ পয়সা) ১২৫ মেগাবাইট ইন্টারনেট দিচ্ছে ! [..]এভাবেই সরকার দাম কমিয়ে গেলেও আমজনতা কোনো রেহাই তো পাচ্ছেই না, বরঙ অন্য দেশের তুলনায় আমাদের কাছ থেকে দামও বেশী রাখা হচ্ছে

বিশাল এক মোবাইল ফোন বিল সমতা বিষয়ক বিশাল এক দেওয়াল চিত্রের সামনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র। ছবি ফিরোজ আহমেদের। কপিরাইট ডেমোটিক্সের (১৫/৫/২০১২)

তাহলে মিস কল নামক প্রতিবাদ কি ভাবে কাজ করে?

নির্দিষ্ট একটি তারিখে নির্দিষ্ট সময়ে আমরা সবাই মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্ক ব্যস্ত রাখবো , কিন্তু এক পয়সাও খরচ করবো না ।
আর সেই উপায় হলো মিসড কল । একটি নির্দিষ্ট তারিখে পিক আওয়ারে আমরা সবাই যদি গনহারে পরিচিতজনদের মিসড কল দেয়া শুরু করি , তবে মোবাইল অপারেটরদের বি টি এস ব্যস্ত থাকবে ঠিকই, কিন্তু যেহেতু আমাদের কারও কোনো খরচ করতে হচ্ছে না, তাই আমাদের কোনো ক্ষতি হবে না । যা ক্ষতি হবার হবে কোম্পানীর,কারন সেই সময় আমরা তাদের নেটয়ার্ক ব্যবহার করেছি ঠিকই কিন্তু কোন টাকা দিচ্ছিনা! আমরা অনেক মানুষ যদি একত্রিত হতে পারি,তবে কোম্পানীর ক্ষতিটা নেহায়েত কম না ।

ফেসবুকের এই কর্মসূচি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ইতোমধ্যে ১৪০,০০০ জন নাগরিককে এই পাতায় যোগ দেবার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং প্রায় ১৫০০০ জন নাগরিক হ্যাঁ বলেছে। দুর্যোধনেরপ্রদান করা এক তাজা সংবাদ অনুসারে:

শুধু ইন্টারনেটের দাম কমানোই নয় , আমরা বিভিন্ন অপারেটর কর্তৃক সকালে বা গভীর রাতে ইচ্ছেমত পাঠানো স্প্যাম মেসেজের বিরোধিতাও করি ।

ব্লগার রবিন এই প্রতিবাদকে সমর্থন জানিয়েছে এবং সে আরো নতুন কিছু আবিস্কার করেছে:

আমার সাথে অনেক বন্ধু বান্ধব আছে যাদের মোবাইল ফোন দুই বা ততোধিক… আমার অবশ্য দুইটা ফোনসেট [..]

ভাবতেছি, দুইটাই সাইলেন্ট কইরে একটা থেকে আরেকটায় অটোমেটিক রি-ডায়াল দিয়া থুইয়া দেব… [..]

ফেসবুকে রাসেল পারভেজ লিখেছে:

অহিংস ক্ষতিসাধনের আইডিয়াটা চমৎকার নিঃসন্দেহে, যদিও একই সাথে এইসব অদ্ভুত আন্দোলন ধারণা কৌতুককর অনুভুতি তৈরি করে

বিনোদন বিলাসিতা না কি প্রয়োজনীয় কর্মকান্ড এটা নিয়ে অনেক মাত্রার বিতর্ক হতে পারে, যদি আন্দোলনকারীরা মিস্কল মিসকল না খেলে বরং সরাসরি মোবাইলে ইন্টারনেট বন্ধ করার হুমকি দিতো এবং সেটা ব্যপক পরিসরে ছড়িয়ে দিতো আন্দোলন আরও সফল হওয়ার সম্ভবনা থাকতো।

আমাদের ভোক্তা অধিকারসংরক্ষণের একটি সংগঠন আছে, তারা যদি মোবাইল কোম্পানীর পরিচলন ব্যয় এবং ভোক্তার প্রদত্ত মূল্যের তুলনামূলক আলোচনা করে ভোক্তা অধিকার আইনে একটা রীট দায়ের করতো কিংবা যদি সরকারকে এ ডাকাতি সম্পর্কে অবহিত করতো সেটা আরও ফলদায়ক হতে পারতো

এই প্রতিবাদের ফেসবুকের পাতা অনুসারে:

আপনারা রবিবার সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত কোন কল রিসিভ করবেন না। আপনাদের এতটুকু আত্মত্যাগ আমাদের সবার স্বপ্ন পূরন আর দাবি আদায়ের হাতিয়ার হবে। তাই সবাই ৩ ঘন্টা সময় দিন।

এত দিনের অনাচারের বিরুদ্ধে তিন ঘন্টার প্রতিবাদ কি খুব বেশী ?

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .


বিশ্বের অঞ্চলসমূহ

দেশ

ভাষা

বিশেষ টপিক

লেখাটির সাথে আছে