বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

সরকারি আইনজীবীরা বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী সৌদি নারীদের চাবকানোর উপায় খুঁজছে

শনিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০১৩-এ, অভিযোগ গঠন করা হয়নি কিন্তু কারাগারে আটক এমন বন্দীদের আত্মীয়রা সৌদি শহর বুরাইদাতে ছোট্ট আকারের এক বিক্ষোভের আয়োজন করতে সক্ষম হয়। এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী সকলে ছিল নারী এবং শিশু, দ্রুত পুলিশ তাদের ঘিরে ফেলে এবং গ্রেফতার করে, কারণ সৌদি আরবে জনসম্মুখে সকল প্রকার বিক্ষোভ কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ এবং নিরঙ্কুশ ক্ষমতাধারী রাজতন্ত্রে তা নির্মমভাবে দমন করা হয়। তবে এই নিষেধাজ্ঞা বিগত দুই বছর রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তে বন্দীদের পরিবারের সদস্যদের এই ধরনের কয়েকটি বিক্ষোভ এবং অবস্থান ধর্মঘট আয়োজন করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি, স্বাধীন এক মানবাধিকার সংস্থার সূত্রমতে দেশটিতে বিনা অভিযোগে ৩০,০০০ নাগরিক বন্দী, যাদের অনেকে ৯/১১-এর পর “সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের” প্রেক্ষাপটে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

ছদ্মনামের একটি একটিভিস্ট গ্রুপ @ই৩টেকাল (যার অর্থ “আটক”) সংবাদ প্রদান করে যে যখন নারী ও শিশুদের গ্রেফতার করা হয়, তখন তাদের উপর শক্তি প্রয়োগ করা হয় [আরবী ভাষায়]:

عاجل تم توثيق الاعتداء على النساء والأطفال أثناء النقل بالقوة من قبل أحد المارة الكرام

@ই৩টেকাল: জরুরী: নারী ও শিশুদের জোর করে সেখান থেকে সরানোর সময় তাদের উপর হামলা চালানো হয় ।

শনিবারে পুলিশ বাহিনী পরিবেষ্টিত নারীরা, @ইমাকিউএইচ এর মাধ্যমে পাওয়া

যখন নারী এবং শিশুদের গ্রেফতার করা হয়, তাদের আত্মীয়রা বুরাইদার কাছে আল সাফরা কারাগারের দিকে এগিয়ে যায়, বলা হচ্ছে যেখানে তাদের আটকে ফেলা হয়, দাঙ্গা পুলিশ তাদের ঘিরে রাখে, কিন্তু সারারাত ধরে তারা সেখান অবস্থান করে। বুরাইদা শহর যেখানে অবস্থিত সেই কাসিম প্রদেশের যুবরাজ সকালবেলা কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে ছেড়ে দেবার আদেশ জারি করে [আরবী ভাষায়], এদের মধ্যে কয়েকজনকে রিয়াদে স্থানান্তর করতে বলে (যাদের মধ্যে অন্তত একজন শিশুও ছিল ) আর অবশিষ্টদের ক্রমাগত বুরাইদায় আটকে রাখা হয়। ঠিক দুপুর ২.০৬ মিনিটে উক্ত প্রতিবাদে অবস্থান গ্রহণ করা একজন টুইট করেন:

نحن اﻵن محاصرون وعدد الرجال قرابة الخمسين والنساء عشر نساء..ﻻ تنسونا من الدعاء والمناصرة بالميادين

@মা৪৪আউ: আমাদেরকে ঘিরে রাখা রাখা হয়েছে। পুরুষের সবাই পঞ্চাশ উর্ধ্ব এবং নারীদের সবার বয়স প্রায় দশ বছর, আমাদের জন্য প্রার্থনা করুন এবং আমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসুন।

একটি ভিডিও আপলোড করা হয়েছে যা কিনা বয়স্ক এক নারীর কান্নার, যে “গ্রেফতার হবার আগে পাঁচ মিনিট কেঁদেছিল“।

ওই দিনই, পরে, আর বিক্ষোভ করব না এই মুচেলেকা প্রদান করার পর বিক্ষোভকারীদের মুক্তি প্রদান করা হয়, যাদের মধ্যে একজন টুইট করেছে:

شيخ طاعن بالسن بكاء بكاءًا شديدًا لمّا قال له المحقق : ماذا تريد ؟ رد عليه : لا أريد أبنائي، فقط أريد بناتي !

@মাজেদ০৬: অত্যন্ত বৃদ্ধ এক ব্যক্তি প্রচুর কেঁদেছেন। যখন জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাকে প্রশ্ন করা হয়, “তুমি কি চাও”? তিনি উত্তর প্রদান করে, “আমি আমার ছেলেদের ফেরত পেতে চাই না, আমি কেবল আমার মেয়েদের ফেরত চাই”।

গতকাল ৯ জানুয়ারিতে সকালে বুরাইদার মূল বিক্ষোভ স্থল থেকে গ্রেফতারকৃত তিনজন নারীকে আদালতে হাজির করা হয়, অভূতপূর্বভাবে সঠিক সময়ে। বিচার গোপনে পরিচালনা করা হয়, এবং বিচারক উৎসাহ দিচ্ছিলেন যে প্রতিটি নারীকে একজন পুরুষ সঙ্গ প্রদান করবে। আদালতের নিরাপত্তা বাহিনী। একটিভিস্ট এবং গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের আত্মীয়দের আদালতে প্রবেশ করতে দেয়নি [আরবী ভাষায়]।

সরকারি আইনজীবী বলেন, বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নারীদের চাবকানো উচিত:

المدعي العام ابراهيم الدهيش طالب القاضي بسجن المعتقلات وجلدهن وكان حريصا على ذلك

@আবদুল্লাহ ১৪০৬: সরকারি কৌসুলি ইব্রাহিম আল-দিহিশি, বিচারকের কাছে আটককৃতদের কারাদণ্ড প্রদানের দাবী করেন এবং তাদের চাবকানোর বিষয়ে তিনি উৎসাহ প্রদান করেন।

طلب القاضي من النساء عدةمرات ان يعتذرن عن التظاهر فرفضن ذلك

@আবদুল্লাহ ১৪০৬: বিচারক বেশ কয়েকবার নারীদেরকে বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলেন, কিন্তু তারা তা করতে অস্বীকার করে।

قالت احدى المعتقلات والله لو تحكمون بخمس عشر سنه لن نعتذر فنحن نطالب بحق مشروع

@আবদুল্লাহ ১৪০৬ : আটককৃত একজন বলেন: আমি ঈশ্বরের নামে শপথ করে বলছি যদি আপনি আমাদের ১৫ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন, তারপরেও আমরা ক্ষমা প্রার্থনা করব না। আমরা আমাদের বৈধ অধিকার দাবী করছি।

বিচারক নারীদের দোষী সাব্যস্ত করেন, কিন্তু তাদের পাঁচদিন আটকে রাখাকে তিনি যথেষ্ট মনে করেছেন। রিয়াদের স্থানান্তর করা বিক্ষোভকারীসহ বাকীরা বিচার ছাড়াই কারাগারে আটক রয়েছে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .