উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

বাংলাদেশ: রাস্তার মেয়ে শিশুদের কথাও ভাবতে হবে

আপনি যদি ঢাকার ট্রাফিক সিগন্যালে কয়েক মুহূর্তের জন্য দাঁড়ান; দেখবেন, একদল ছেলেমেয়ে গাড়ি থামা মাত্রই দৌড়ে জানালার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। তাদের কারো হাতে ফুল, কারো হাতে বই, কারো হাতে পত্রিকা, আবার কারো হাতে চকলেট। গাড়ির আরোহীদের কাছে তারা এগুলো বিক্রি করে। ঢাকার খুব পরিচিত বিষাদময় একটা দৃশ্য এটা। পরিচিত দৃশ্যের এই ছেলেমেয়েরা পথশিশু। পথ-ই তাদের জীবন-জীবিকার সবকিছু।

বাংলাদেশে এরকম পথশিশুর সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ। এর মধ্যে ২ লাখ-ই আছে রাজধানী ঢাকায়। এদের বড়ো একটা অংশ আবার মেয়ে শিশু। এরাই সমাজের সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে আছে।

জীবিকার তাগিদে ফুল বিক্রি করছে পথশিশু মিলি ও বৃষ্টি।

জীবিকার তাগিদে ফুল বিক্রি করছে পথশিশু মিলি ও বৃষ্টি। ছবি তুলেছেন ফিরোজ আহমেদ। সত্ত্ব ডেমোটিক্স (২১/১/২০১২)

গত মার্চ মাসে উন্নয়ন অন্বেষণসোশ্যাল কানেকশন অব দ্য স্ট্রিট গার্ল ইন দ্য কনটেক্স অব ঢাকা সিটি, বাংলাদেশ” [পিডিএফ] শীর্ষক এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, রাস্তার মেয়েদের বেশিরভাগই ফুল বিক্রি করে। এদের সংখ্যা ৩৭.৫০ শতাংশ। ১৮.৮০ শতাংশ মেয়ে দেহ ব্যবসার সাথে জড়িত। ৬.২৫ শতাংশ পোশাক কারখানায় কাজ করে। ৬.২৫ শতাংশ ভিক্ষা করে। ১২.৫০ শতাংশ দোকানদারি, ৬.২৫ শতাংশ পত্রিকা বিক্রি করে। রাস্তায় কাজ করা এই মেয়েদের প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৫ জনের দৈনিক আয় ১০১-২৯৯ টাকা। ৬.২৫ শতাংশ মেয়ের আয় ১০০ টাকার নিচে। ৪৩.৭৫ শতাংশ মেয়ের দৈনিক আয় ৩০০ টাকার উপরে। ঢাকার রাস্তায় বসবাসকারী এই মেয়েদের ৪৫ শতাংশ সরকারি হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকে চিকিত্সা সুবিধা পায় না। আবার এদের প্রতি ১০ জনের ৩ জন কখনোই স্কুলে যায় নি।

বাংলাদেশে মহিলা এবং মেয়ে শিশুরা ধর্ষণ, হত্যা, ইভ টিজিং, যৌতুক, অ্যাসিড নিক্ষেপসহ নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হন। তবে রাস্তায় খোলা আকাশের নিচে যেসব মেয়ে শিশু আছেন, তাদের ওপর নির্যাতন আরো বেশি মাত্রায় হয়ে থাকে। “সোশ্যাল কানেকশন অব দ্য স্ট্রিট গার্ল ইন দ্য কনটেক্স অব ঢাকা সিটি, বাংলাদেশ” প্রতিবেদন থেকে রাস্তার মেয়ে শিশুর ওপর যেসব সহিংসতার ঘটনা ঘটে, তার চিত্র তুলে ধরা হলো:

মেয়ে শিশুদের ওপর সহিংসতার চিত্র

আড্ডার আসর ফোরামে নীলকাব্য রাস্তার মেয়ে শিশুদের অসহায়তা নিয়ে লিখেছেন:

যেখানে নিজগৃহেই আপনার-আমার কন্য সন্তান নিরাপদ নয় সেখানে ২৫.৭ % মেয়ে শিশু যারা রাস্তায় থাকে বা থাকতে বাধ্য হয় এদের কথা ভাবতে গেলে সত্যিকার অর্থেই ভয়ে শিউরে উঠতে হয়।

প্রথম আলো ব্লগে নিজাম কুতুবী লিখেছেন:

সম্প্রতি যৌন নির্যাতনবিরোধী নীতিমালা নিয়ে বেশ আলোচনা হলেও পথশিশু ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিয়ে কেউ ভাবছে না। পথেঘাটে রাত যাপনের ফলে তারা নানাভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। অথচ তাদের নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো ভাবনা নেই।

খোলা আকাশের নিচে বসবাস।

খোলা আকাশের নিচে বসবাস। ছবি তুলেছেন অনিকেত। সত্ত্ব ডেমোটিক্স (৬/৪/২০১২)।

ব্লগার মা একটি বাংলা গানের উদ্ধৃতি দিয়ে পথশিশুদের জন্য একটা নিরাপদ আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন:

‘সবুজের ওপারে হোক অন্য সূর্যোদয়, পৃথিবী হোক নির্ভয় আশ্রয়’

পৃথিবী হোক এই শিশুদের নির্ভয় আশ্রয়..এটা কি খুব বেশি প্রার্থনা…

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .