তুর্কি নীতির প্রতিক্রিয়া হিসেবে মাসের পর মাস ধরে কুর্দি বিদ্রোহীদের মারাত্মক সহিংসতার পরে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রেসেপ তায়িপ এর্দোগান সংকেত দিয়েছেন যে তিনি কুর্দি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সমঝোতা করবেন।
সহিংসতা আরো বেড়ে যেতে পারে এই আশংকা এর্দোগানকে আলোচনার দিকে ধাবিত করেছে। এর আগে কুর্দিপন্থী শান্তি ও গণতন্ত্র পার্টির বারবার আহবান সত্ত্বেও তুরস্ক বিদ্রোহীদের সঙ্গে সমঝোতা করতে রাজি ছিল না।
তুরস্ক এবং সাইপ্রাসে আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের প্রকল্প পরিচালক হিউ পোপ ২০০৯ সাল থেকে পরিবর্তন কীভাবে কুর্দি জনগণের জীবনকে প্রভাবিত করেছে সেটা তুলে ধরে ইউরোনিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন:
গত বছর পরিস্থিতির খুবই মারাত্মক অবনতি ঘটেছে যে এক পর্যায়ে এই যুদ্ধে ২০০ জনেরও বেশী সৈন্য, ৪০০জনের বেশি পিকেকে সদস্য, এবং প্রায় ৮০জন বেসামরিক নাগরিকসহ ৭০০ জনের বেশি নিহত হয়েছে। পিকেকে নেতা আবদুল্লাহ ওসালানকে গ্রেপ্তারের পর থেকে এটাই সবচেয়ে খারাপ পরিসংখ্যান এবং আমি মনে করি তুরস্কের জন্যে এটাই ঘুরে দাঁড়ানোর একটা মুহূর্ত কারণ অঞ্চলটির অনেক কিছু পরিবর্তন হচ্ছে বলে তুরস্কের নতুন একটি নীতি নির্দেশনা দরকার। আমি মনে করি বর্তমানে সংঘর্ষের তীব্রতা যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে নীতিমালার একটি বাস্তব পুনর্বিচার প্রয়োজন।

দিয়ারবাকিরের সংঘর্ষের বিরুদ্ধে ইস্তাস্বুলে কুর্দিদের প্রতিবাদ। ছবি ফুলিয়া আতালায়, সর্বস্বত্ত্ব ডেমোটিক্স (১৫/০৭/১২)।
তুর্কি সরকার সবসময় মনে করে যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একীভূত হয়ে একসময় তুর্কি হয়ে যাবে এমন যুক্তি করা সমাজবিজ্ঞানীদের কাছে কুর্দি বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলোচনাটি একটি বিস্ময় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
ইসমাইল বেসিকচি রুদঅ’র সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে এরকম বলেছেন বলে উদ্ধৃত করা হয়:
কুর্দি সমস্যা সমাধানে তুর্কি রাষ্ট্রের নির্দিষ্ট কোন দৃষ্টিভঙ্গী নেই। তাই এটি সমস্যা সমাধানে বিলম্ব করছে, হয়তো সময়ের ব্যবধানে এটি সমাধান হয়ে যাবে এই আশায়। কারণ তুর্কি রাষ্ট্র মনে করে যে সময় গড়াতে থাকলে একসময় কুর্দিরা একীভূত হয়ে যাবে। একটি বিশাল সংখ্যক কুর্দি জনগণ তুরস্কের পশ্চিমে বসবাস করে। রাষ্ট্রটি বিশ্বাস করে যে দুই থেকে তিন প্রজন্ম পরে তারা একীভূত হয়ে একসময় তুর্কী হয়ে যাবে। আমি এটিকে রাষ্ট্রটির পরিকল্পনা হিসেবে বিশ্বাস করি।
সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে দেখা যায় যে পিকেকে’র (কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি) গেরিলা আন্দোলনটি সমঝোতায় আসতে চায়।
তুর্কি সরকার সমঝোতাটিকে অসলো আলোচনা প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার জন্যে দায়ী। তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এমআইটি) এবং পিকেকে’র মধ্যেকার সমঝোতায় উপস্থিত কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) একজন সিনিয়র সদস্য জুবাইর আয়দার একথা বলার সময় আরো যোগ করেছেন যে পিকেকে আবার আলোচনার শুরু দেখতে চায়।
টুইটারে প্রতিক্রিয়াগুলি ছিল ভিন্ন; কেউ কেউ কুর্দি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের সফলতা নিয়ে এর্দোগানের পূর্ববর্তী বিবৃতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
টুইটার কুর্দি বিদ্রোহীদের বিষয়ে নানাধরনের প্রতিক্রিয়া আকর্ষণ করেছে এবং অনেক কুর্দি সম্ভাব্য আলোচনার সম্পর্কে টুইট করেছে। কেউ কেউ সন্দ্বিগ্ন, আবার কেউ কেউ আলোচনাটিকে তুরস্ককে খুবই খারাপভাবে প্রদর্শন করা বর্তমান উচ্চকিত সহিংসতায় পানি ঢেলে প্রশমিত করার একটি উপায় হিসেবে সরাসরি উল্লেখ করেছে।
উদাহরণস্বরূপ, তুরস্কে বসবাসরত নেসিরভান নামের একজন কুর্দি টুইট করেছেন যে কুর্দি জনগণের সঙ্গে আলোচনা হলো সময়ের অপচয় এবং এটা আরো হতাশার দিকে নিয়ে যাবে। ইয়েজদান একই দৃষ্টিভঙ্গী প্রতিধ্বনিত করে বলেছেন কুর্দিরা এই আপস প্রচেষ্টায় চুপচাপ থাকবে না।
ইদ্রীস মোহাম্মদ উল্লেখ করেছেন যে অভ্যন্তরীণ চাপ বেড়ে যাওয়ায় এর্দোগান আরো বেশি আলোচনার দিকে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। কিন্তু রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ছাত্র বাক্সতিয়ারের মতে “পিকেকে যোদ্ধাদের মোকাবেলার ক্ষেত্রে তুর্কি বাহিনীর দুর্বলতা”ই আলোচনার দিকে যাত্রার কারণ।
এতে কোন সন্দেহ নেই যে কুর্দি বিদ্রোহীরা আলোচনা করতে প্রস্তুত, কারণ পার্বত্য এলাকাগুলিতে তাদের অবস্থানে তুর্কি বাহিনীর বোমা বর্ষণে তারা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জনগণকে হারিয়েছে। কুর্দিপন্থী এক্টিভিস্ট হেভাল্লো টুইট করেছেন যে কুর্দি বিদ্রোহীরা “অসলো আলোচনা পুনরায় আরম্ভ করার” আহবান জানিয়েছে।






























এই লেখাটি পাওয়া যাবে এই কয়টি ভাষায়:






















কিন্তু আন্না হাজারে কোথায় গেলেন?....উনিই আমাদের দ্বীতিয় গান্ধিজি।