উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

জলাভুমি সংরক্ষণে তিউনিশিয়া থেকে চীন পর্যন্ত সাইকেল চালনা

ছেলেটির নাম আরাফাত বিন মারজু। বয়স ৩১। বাড়ি তিউনিশিয়া। বায়োলজিক্যাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল থেকে স্নাতক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিও পেয়েছিল। কিন্তু ছোটবেলার স্বপ্ন সফল করতে সেটি ছেড়ে দেয়। সেটাও আজ থেকে সাত মাস আগের কথা। সেসময়ে সে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়ে তিউনিশিয়া থেকে চীনের উদ্দেশ্যে।

মারজু তিউনিশিয়া থেকে যাত্রা শুরু করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি ইস্তাম্বুলে পৌঁছে। সে সাইকেলে চড়ে পাড়ি দেয় তুরস্ক, জর্জিয়া, আজারবাইজান, ইরান, আফগানিস্তান, উজবেকিস্তান এবং কাজাখস্তান। এখন সে চীনের জিনজিয়ানে রয়েছে।

সে তার ফেসবুক পেজ তাব্বানিতে (বাংলা অর্থ অনুসরণ করা) সাইকেল করে ঘুরে বেড়ানোর সব আপডেট পোস্ট করে। ৩০ আগস্টে সে লিখে:

চীনে… এবং বেঁচে আছি। খুব শিগগিরই আপডেট দিবো। :)))

Xinjiang, China photo via Facebook page Follow Me

জিনজিয়াং, চীন। ছবি ফেসবুক পেজ ফলো মি থেকে নেয়া হয়েছে।

মারজুর সাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়ানো প্রজেক্টের নাম ওয়েট-বাইক। পরিবেশের জন্য জলাভুমি এবং এর সম্পদ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা থেকেই এই উদ্যোগ। বিন মারজু’র পশ্চিম এশিয়ার এক রামসার সাইট থেকে আরেক সাইট পর্যন্ত এই সাইকেল ভ্রমণ মানুষকে জলাভুমির পরিবেশগত গুরুত্ব এবং এইসব জায়গা ধ্বংস হওয়ার বিপদ সম্পর্কে সচেতন করার উদ্দেশ্যেই ছিল।

Photo taken in Azerbaijan. Via Ben Marzou's Facebook page Follow Me.

আজারবাইজানে। ছবিটি মারজুর ফেসবুক পেজ ফলো মি থেকে নেয়া হয়েছে। 

ফেব্রুয়ারির ২ তারিখে মারজু রাস্তায় নামে। সেদিন তিউনিশিয়ার ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড লিখে:

Pour cette initiative le message transmis est principalement un message d’une dimension humaine et environnementale.
A travers ce périple, il essayerai entre autres de porter une réflexion autour des lacs et des zones humides, et ceci par le partage des photos, vidéos, le contact des gens sur place et le partage de leurs expériences…

এই উদ্যোগ মূলত মানবিক এবং পরিবেশগত মাত্রার বার্তা-ই আমাদের দেয়। এই সুদীর্ঘ যাত্রায় সে (মারজু) ছবি, ভিডিও এবং স্থানীয় মানুষদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার মাধ্যমে চেষ্টা করবে হ্রদ এবং জলাভুমি এলাকার অবস্থা তুলে ধরতে…

চ্যালেঞ্জ

স্বপ্ন সত্যি করতে মারজু একের পর এক প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছে। সেই সব প্রতিবন্ধকতার কথা ফেসুবুক পেজে শেয়ার করেছেন। জুলাইয়ের ২৬ তারিখে সে লিখে:

encore la.. pour le malheur de la route qui reste :))) , des aventures a couper le souffle.. encore en Afghanistan et encore a velo.. merci pour vos messages touchants et sympa, hamdoullah tout va bien, traverser le Hidu kush a becane etait un fort challenge, 5 jours, 120 km et 3400 m d'altitude, sinon je suis quelques part entre kabul et Mazar-sherif

দূর্ভাগ্য আমি এখনো এখানে রাস্তায় আছি… খুবই উত্তেজনাপূর্ণ অ্যাডভেঞ্চার এটা। আমি এখনো আফগানিস্তানেই সাইকেল চালাচ্ছি। যারা আশার বাণী শুনিয়ে বার্তা দিয়েছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, সবকিছু ভালোভাবেই চলছে। হিন্দু কুশ (মধ্য আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত বিরাট এক পাহাড়শ্রেণী) অতিক্রম করাই বড়ো চ্যালেঞ্জ: ৫ দিন, ১২০ কিলোমিটার, এবং উচ্চতা ৩৪০০ মিটার। তাছাড়া আমি কাবুল এবং মাজার শরীফের মাঝামাঝি কোথাও আছি।
Fortunately, Ben Marzou did not fall hostage to the Taliban. He was rather welcomed to spend the night in an Afghani viallge. Photo via Ben Marzou's Facebook page

সৌভাগ্যক্রমে তালেবানরা মারজুকে জিম্মি করেনি। এক আফগান গ্রামে আমন্ত্রিত অতিথির মতোই রাত্রিযাপন করে। ছবি মারজুর ফেসবুক পেজ ফলো মি থেকে নেয়া।

এর এক সপ্তাহ আগে সে কিছু টিপস শেয়ার করে। তালেবানরা তাকে বন্দি করলে তিনি কি করেছিলেন টিপস ছিল সে বিষয়ে:

Première leçon enseignée dictée et ordonné par les militaires afghans, en cas où je tombe en otage par les talibans, il ne faut en aucun cas parler en anglais, l’arabe peux être très utile, ta religion peux aussi te sauver, si tu arrives à leur faire expliquer que t’es musulman avant qu’ils te tirent dessus, t’a une chance de survivre…

প্রথম শিক্ষা হলো, আফগান সৈন্যরা হুকুম করে: কোনো কারণ ছাড়াই শুধু ইংরেজি বলার জন্য তালেবানরা আমাকে জিম্মি করেছিল। আরবি এখানে খুব দরকারি ভাষা। আমার ধর্ম আমাকে রক্ষা করেছে। আমাকে গুলি করার আগেই আমি সফলভাবে তাদের ব্যাখ্যা করতে পেরেছি যে আমি মুসলিম, এজন্য আমার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বেশি ছিল…

৫ই আগস্ট সে লিখে:

la route du Pamir est fermee… cela complique d'avantage le trajet :/ cette incroyable route qui traverse les Himalaya a travers le tajikistan et le kyrgyzestan est temporairement fermee… des affrontement avec les talibans en cause… pour ma part je serai reellement en impasse..
des suggestions..??

পামির রাস্তা [এই রাস্তা পামির পর্বতের ভেতর দিয়ে মধ্য এশিয়ার আফগানিস্তান, উজবেকিস্তান, তাজাকিস্তান এবং কাজাকিস্তান অতিক্রম করেছে] বন্ধ ছিল… এটা ভ্রমণের কষ্ট বাড়িয়ে দিয়েছিল :/ এই বিস্ময়কর রাস্তাটি হিমালয় অতিক্রম করে তাজিকিস্তান এবং কাজাকস্তানে গেছে, এটা সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ ছিল… তালেবানের সাথে সংঘর্ষের কারণে… এটা আমার কাছে স্বপ্নের মৃত্যুর প্রতিনিধিত্ব স্বরূপ। কেউ পরামর্শ দিতে পারবেন?

আগস্টের ১০ তারিখে তার ভ্রমণের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের কথা সে জানায়:

je crois que, plus que tout, le vrai challenge dans cette aventure, c'est le fait d'affronter le blocus administratif et reglementaire de ces ex-republiques sovietiques avec mon cher passeport Tunisien

অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে আমার বিশ্বাস যাত্রাপথের বাস্তব চ্যালেঞ্জ ছিল প্রশাসনিক এবং নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের মুখোমুখি হওয়া। আমার তিউনিশিয়ার পাসপোর্ট সাবেক সোভিয়েত দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ ভালোভাবেই চেপে ধরেছিল।
Ben Marzou cycling in Afghanistan. Photo via Facebook page Follow Me

আফগানিস্তানে মারজু সাইকেল চালাচ্ছেন। ছবি ফেসবুক পেজ ফলো মি থেকে নেয়া।

ইরান: প্রথমে শিয়া ইসলামের সাথে সাক্ষাত্

Shia shrine in Iran

ইরানে শিয়া মসজিদ।

সাইকেল নিয়ে দীর্ঘ সাত মাসের ঘোরাঘুরি – এই সময়ের নানা ধরনের অভিজ্ঞতা রয়েছে মারজুর। তার ফেসবুকে পেজে এসব অভিজ্ঞতা সবার সাথে শেয়ার করেছেন। জায়গা এবং ধৈর্য্য কোনোটাই আমার নেই মারজুর চমত্কার সব অভিজ্ঞতা অনুবাদ করার। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি তার ইরান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা গ্লোবাল ভয়েসেস পাঠকদের কাছে তুলে ধরবো।

ইরান শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের দেশ। আর মারজু সেখানে গিয়েছিল সুন্নী সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি দেশ থেকে। উভয়ে মুসলিম হলেও বিশ্বাস ও আচারে পার্থক্য রয়েছে। ইরাক এবং লেবাননের মতো দেশে মাঝে মাঝে এই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংর্ঘষও বাধে।

১৬ জুলাইয়ে সে নিচের পোস্টটি প্রকাশ করে:

Et c'est la fin d’une aventure persane qui a duré 70 jours, 700 km de vélo et plusieurs milliers de km de route, c’est une des étapes les plus intenses dont je me rappellerai toujours, ce grand pays plein de contrastes, plein de vie et de désir, je me rappellerai toujours de cette hospitalité inégalable, de cet amour du partage, « almousafér 7abibou allah » tel croient les descendants d’Ali…

Ce fut aussi ma première rencontre avec le chiisme, que loin de toute comparaison inutile je respecte…

«T’es chiite ou sunnite » c’est une des questions qui s’est fréquemment posée
« Je suis musulman tout court » tel était ma réponse,

Et là curieusement, et presque toujours, un grand sourire se dessine sur le visage de mon interlocuteur…

৭০ দিনে সাইকেলে ৭০০ কিলোমিটার এবং আরো হাজার কিলোমিটার ড্রাইভিং শেষে আমার ইরান অভিজ্ঞতা হয়। আমার ভ্রমণের মধ্যে এটা ছিল খুবই চমকপ্রদ একটা জায়গা, যেটা আমি সবসময় মনে রাখবো। বিপুল আয়তনের ইরান দেশটিতে মানুষের জীবন এবং তাদের চাওয়া-পাওয়ার বিস্তর ব্যবধান রয়েছে। আমি তাদের নি:স্বার্থ আতিথেয়তা, ভালোবাসা ভাগ করে নেয়ার মানসিকতা মনে রাখবো। “অতিথিরা আল্লাহ’র প্রিয়পাত্র”, আলীর বশংধররা এভাবেই চিন্তা করে… [শিয়া ইসলামে আলী হলেন মুহম্মদ (সা:) এর উত্তরাধিকারী]।

শিয়া ইসলামের সাথে এই আমার প্রথম সাক্ষাৎ হয়। কোনো তুলনা ছাড়াই আমি একে সম্মান জানাই (…)

সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছি সেটা হলো “তুমি কি শিয়া না সুন্নি মুসলিম?”

“আমি একজন মুসলমান” সবাইকে আমি এটাই বলেছি।

তারপর অদ্ভুতভাবে আকর্ণবিস্তৃত হাসি দিয়ে আমাকে বরণ করে নিয়েছে…

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .