বন্ধ করুন

গ্লোবাল ভয়েসেসকে শক্তিশালী করতে আমাদের সহায়তা করুন

আমরা ১৬৭টি দেশের উপর রিপোর্ট করি। আমরা ৩৫টি ভাষায় অনুবাদ করি। আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস।

প্রায় ৮০০ এর বেশী গ্লোবাল ভয়েসেস এর লেখক একসাথে কাজ করছে আপনার কাছে অজানা সব গল্প তুলে ধরতে। কিন্তু আমাদের পক্ষে একা সব করা কঠিন। আমাদের অনেকেই স্বেচ্ছাসেবক হলেও আমাদের সম্পাদক, প্রযুক্তি এবং অ্যাডভোকেসী প্রকল্প ও সামাজিক অনুষ্ঠানের ব্যয়ভারের মেটানোর জন্যে আপনাদের সাহায্য প্রয়োজন।

আমাদের সহায়তা করুন এখানে ক্লিক করে: »
GlobalVoices পাওয়া যাবে আরও জানুন »

বাংলাদেশ: অক্টোবরের মধ্যে চূড়ান্ত হচ্ছে অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা

বাংলাদেশে অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের সংখ্যা প্রায় ২০০। এতদিন এই মাধ্যমের জন্য কোনো নীতিমালা ছিল না। সরকার অনলাইন গণমাধ্যমকে একটি নিয়মের মধ্যে আনতে খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। অক্টোবরের মধ্যেই অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা ২০১২ চূড়ান্ত হবে। খসড়া নীতিমালার ওপর সরকার মতামত আহবান করেছে।

খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, অনলাইন গণমাধ্যমের লাইসেন্স নেওয়ার জন্য এককালীন পাঁচ লাখ টাকা তথ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। প্রতিবছর ৫০ হাজার টাকা ফি দিয়ে এই লাইসেন্স নবায়ন করতে হবে। সরকার প্রয়োজনে লাইসেন্স ফি পুনর্নিধারণ করতে পারবে।

৫ লাখ টাকা লাইসেন্স ফি করায় নেটিজেনরা ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বিডিনিউজ২৪ব্লগে আমিনুল শ্রাবণ বলেছেন:

অনলাইন পত্রিকা করতে ৫ লাখ টাকা নিবন্ধন ফি এবং বার্ষিক ৫০ টাকা নবায়ন ফি করা হলে, সেটা হবে অনলাইন পত্রিকা বন্ধের পদ্ধতি. যেখানে সহজ পক্রিয়ায় একটি দৈনিক পত্রিকা’র অনুমোদন পাওয়া যায়, সেখানে অনলাইন পত্রিকা’র নিবন্ধনে এটি বিরূপ অবস্থার সৃষ্টি করবে।

Online Newspaper logo by Vectorlib.com from Shutterstock

জনপ্রিয় ব্লগার আরিফ জেবতিক একে নীতিমালা না বলে অনলাইন সাংবাদিকতা ট্যাক্স হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি প্রশ্ন করেন:

একটি অনলাইন পত্রিকার পক্ষে কত আয় করা সম্ভব যে তাঁরা পাঁচলক্ষ টাকা দিয়ে লাইসেন্স কিনবে? এই লাইসেন্স নিলেই কি সংবাদ মাধ্যমগুলো জায়েজ হয়ে পড়বে? তাঁদের সাংবাদিকতার মান রক্ষায় নীতিমালায় এখন পর্যন্ত কোনো কথাবার্তাই বা নাই কেন?

সাজাহান সিরাজ মনে করছেন এতে অনলাইন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে যে কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে সেটা বন্ধ হবে:

এর অর্থ হল এই অনলাইন পত্রিকার প্রসার করে যারা দুই টাকা রোজগার করে কর্মসংস্থানের যোগাড় করেছে সেইটাও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ সরকার অনলাইন পত্রিকায় কর্মরত সবার পেটে লাথি মারতে চাইছে।

বিডিনিউজ২৪ব্লগের একটি পোস্টে আশিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন:

হাস্যকর সিদ্ধান্ত। যারাই কথা বলবে তাদের বিরুদ্ধে তাদেরই আইন অথবা নীতিমালার আওতায় আনা হবে। স্বাধীন গন-মাধ্যমের জন্য এটা শুভকর সিদ্ধান্ত নয়।

সামহোয়ার ইনের ব্লগার ভাটির আইপি মন্তব্য করেছে:

দেশের মঙ্গল চাইলে এই ফি'টি কোন ভাবেই ৫ হাজার টাকা অতিক্রম করা উচিত না, তবে উপজেলা, জেলা, সিটিকর্পোরেশন এলাকা ভেদে এই ফি সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা হতে পারবে।তার সাথে অনলাইনে বিনা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় প্রত্যন্ত উপজেলা থেকেও যেন একটি অনলাইন পত্রিকা তথ্য মন্ত্রণালয়ে রেজিষ্ট্রেশন ও ডিকলিয়ারেশন উভয়ই পেতে পারে সে ব্যবস্থা তথ্য মন্ত্রণালয়কে সবার আগে করতে হবে।

নীতিমালা প্রসঙ্গে দৈনিক মানব জমিনের সাথে সাক্ষাত্কারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন:

সরকার যে পদ্ধতিতে নীতিমালা করতে যাচ্ছে এই পদ্ধতিটিই ভুল। নীতিমালা করার আগে যারা এই অনলাইন গণমাধ্যমের সঙ্গে জড়িত তাদের সঙ্গে আলোচনা করে মতামত নিয়ে খসড়া তৈরি করা উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে খসড়া করে তার ওপর মতামত দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া লাইসেন্স নেয়া এবং নবায়নের জন্য যে পরিমাণ অর্থের কথা বলা হয়েছে তা অনেকটা নিয়ন্ত্রণ আরোপের মতোই।

বিডি২৪লাইভ.কম নামক অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম প্রশ্ন তুলেছেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনলাইন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক সম্পর্কে। বাংলাদেশের প্রথম সারির অনলাইন পত্রিকার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন বলে যে মন্তব্য করা হয়েছে তাতে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি। তার মতে:

প্রথম সারির অনলাইন পত্রিকাগুলোকে সরকার কিভাবে পরিমাপ করল? ওয়েবের মান ও পাঠক সংখ্যার ভিত্তিতে না ওয়েবের মালিক বা সম্পাদকের ভিত্তিতে।

তিনি মিডিয়ার নির্লিপ্ততার কথাও বলেছেন:

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে, অনলাইন পত্রিকার মূখ রোধ করতে সরকার যে পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে তা নিয়ে প্রিন্ট মিডিয়া মুখ খুলছে না। বিষয়টা একদমই পরিস্কার। অনলাইন পত্রিকা প্রসার দিন দিন বারার কারনে প্রিন্ট মিডিয়া হারাচ্ছে তাদের পাঠক, গ্রাহক, বিজ্ঞপনদাতা।

আর তাই প্রিন্ট মিডিয়া চায় না অনলাইন পত্রিকার প্রসার ঘটুক।

মোহাম্মদ আরজু নীতিমালাটির বেশ কিছু অংশ উদ্ধৃত করে দেখিয়েছেন যে এগুলো কত অযৌক্তিক:

১১। পেশাগত ও কারিগরি মান:

(ঝ) সকল অনলাইন গণমাধ্যম বাংলাদেশে স্থাপিত সার্ভারে হোস্টিং করতে হবে। ডিএন এস আই (ডোমেইন নেইম সার্ভার ইন্টারনেট প্রটোকল) সম্পর্কে তথ্য মন্ত্রণালয় অবহিত থাকতে হবে।

(ঞ) অনলাইন গণমাধ্যমের অন্য কোন দেশি বা বিদেশী গণমাধ্যম লিংক করা যাবে না।

১৪। নিম্নলিখিত সংবাদ/অনুষ্ঠানাদি সম্প্রচার করা যাবে না:

(খ) রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং রাষ্ট্রীয় নীতির পরিপন্থী কোন সংবাদ/অনুষ্ঠান;

(ঙ) অশালীন বা আক্রমাণাত্মক কোন রসিকতা/গান/বিজ্ঞাপন/সংবাদ বা সাবটাইটেল সম্বলিত কোন অনুষ্ঠান, যা জনগণের নৈতিকতাকে কলুষিত, দুর্নীতিগ্রস্ত বা আহত করতে পারে এমন কো অনুষ্ঠান;

(ট) বন্ধুপ্রতিম দেশসমূহের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে ক্ষতিকর কিছু রয়েছে এমন কোনো সংবাদ/অনুষ্ঠান;

এগুলো দেখে যেন মনে হয় নিয়ম নয়, নিয়ন্ত্রণ আরোপের জন্য আসছে অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .


বিশ্বের অঞ্চলসমূহ

দেশ

ভাষা

বিশেষ টপিক

লেখাটির সাথে আছে