GlobalVoices পাওয়া যাবে আরও জানুন »

বাংলাদেশ: কার্টুন দেখে শিশুরা হিন্দি ও মিথ্যা বলা শিখছে

অনুবাদগুলোএই লেখাটি পাওয়া যাবে এই কয়টি ভাষায়:

English · Bangladesh: Cartoon Makes Kids Learn Foreign Language And Lies
Español · Bangladesh: ¿un dibujo animado les enseña lenguas extranjeras y a mentir a los niños?
Français · Bangladesh : Un dessin animé qui enseigne aux enfants une langue étrangère et les mensonges ?
Filipino · Bangladesh: Palabas na Cartoon, Nagtuturo sa mga Bata ng Dayuhang Wika at Pagsisinungaling
Nederlands · Bangladesh: Gaan kinderen door een tekenfilm een vreemde taal spreken en liegen?
русский · Бангладеш: мультфильм, который учит не только говорить на иностранном языке, но и обманывать?
Italiano · Bangladesh: un cartone animato che insegna a mentire e parlare una lingua straniera?
日本語 · バングラデシュ:ドラえもんは子供の教育に悪いのか?
Malagasy · Bengladesy: Mampianatra ny Zaza Madinika Hiteny Teny Vahiny sy Handainga Ve Ny Sarimiaina?
繁體中文 · 孟加拉:哆啦A夢卡通戕害兒童?
简体中文 · 孟加拉:哆啦A梦卡通戕害儿童?
polski · Bangladesz: Czy kreskówka uczy dzieci mówić w obcym języku oraz kłamać?

ডিজনি চ্যানেলে প্রচারিত একটি কার্টুন বাংলাদেশে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। কার্টুনটির নাম ডোরেমন। বলা হচ্ছে, এটি দেখে শিশুরা পার্শ্ববর্তী দেশের হিন্দি ভাষা ও মিথ্যা বলা শিখছে। কার্টুনটি বাংলাদেশের শিশুদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। তারা তাদের পড়াশোনার বাইরে টেলিভিশন দেথার জন্য যে সময়টুকু পায়, তার পুরোটাই এই কার্টুনের পেছনে ব্যয় করে। আমার ব্লগের একজন মায়ের ব্লগ থেকেই বোঝা যাবে তারা ডোরেমন বলতে কতটা পাগল:

আমার পাঁচ বছর বয়সের ছেলে, ডোরেমন না দেখলে যার ভাত খাওয়া হয় না, স্কুলের হোমওয়ার্ক কমপ্লিট হয় না, রাতে ঘুম পায় না।

আবার আরেকজন মা প্রথম আলো পত্রিকায় চিঠি লিখে জানিয়েছেন:

আমার আট বছরের ছেলের স্কুল থেকে দেওয়া হোমওয়ার্ক নিয়ে ভীষণ সমস্যা। তার সঙ্গ দেওয়ার জন্য একটা ডোরেমন দরকার, যে তার সমস্যাগুলোর সমাধানও করে দেবে।

এই বিড়াল রোবটটির নাম ডোরেমন। শিশুদের কাছে অসম্ভব জনপ্রিয় সে। ছবি উইকিপিডিয়া থেকে নেয়া। ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্সের আওতায় প্রকাশিত

‘ডোরেমন’ জাপানি একটি কার্টুন। মূলত এটি একটি কমিক সিরিজ। জাপানের জনপ্রিয় ‘মাঙ্গা’ সিরিজের কমিক এটি। ডোরেমন হলো দ্বাবিংশ শতাব্দী থেকে আসা একটি ক্যাট রোবট। সে টাইম মেশিনে ভর করে আসে অতীতে অর্থাৎ বর্তমান সময়ে। তার পরিচয় ঘটে নবিতা নামের এক স্কুলছাত্রের সঙ্গে। সেখান থেকেই কাহিনীর সূত্রপাত। নবিতা খুবই ফাঁকিবাজ, অলস প্রকৃতির ছেলে। নবিতাকে বদলে দিতে ডোরেমন সবসময় চেষ্টা করে এবং ২১ শতাব্দীর বিভিন্ন গেজেট দেয়। কিন্তু নবিতা গেজেটগুলোর ভুল ব্যবহার করে।

ডোরেমনের বিষয়গুলো মজার হলেও কতটা শিক্ষণীয় সে বিষয়ে রয়েছে বিতর্ক। কারণ সে নবিতাকে যেসব টিপস দেয় সেগুলোর মধ্যে পড়ালেখার ফাঁকিবাজির টিপসও আছে।

বাংলাদেশের শিশুরা ডোরেমন দেখছে হিন্দি ডাবিংয়ে। হিন্দি ভাষায় দেখার কারণে, তারা এখন অনেক হিন্দি বাক্য বলতে পারে। এবং বাবা-মা কিংবা পরিবারের অন্যদের সাথে কথা বলতে গিয়ে বাংলা না বলে হিন্দি বাক্য ব্যবহার করে। আর এটাই বেশ বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, শিশুরা প্রোগ্রামের প্রধান চরিত্র নবিতার মতো পড়াশোনায় ফাঁকি দেয়া শিখছে। এই বিতর্ক গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সাধারণের ড্রয়িংরুম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে দাবি তুলেছেন, বাংলাদেশে ডিজনি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দিতে।

যেমন সামহোয়ারইনব্লগে কনক বর্মন বলেছেন:

ডোরেমনে'র কারণে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে, বাচ্চারা হিন্দি ভাষা মুখস্ত-ঠোটস্ত করে ফেলতেছে…অথচ, বাংলা ঠিক মত বলতেও পারছে না। অবস্থা এমন যে, এই মুহুর্তে যদি এই চ্যানেলে'র সম্প্রচার বাংলাদেশে বন্ধ করে দেয়া না হয় তাহলে আগামীতে দেশে ঠিক মত বাংলা বলার থেকে হিন্দি বলা ছেলে-মেয়ের সংখ্যা হয়ে যাবে বেশি। তাই, যত দ্রুত সম্ভব এই চ্যানেলটির সম্প্রচার বাংলাদেশে বন্ধ করে দেয়া উচিৎ।

ব্লগবিডিনিউজ২৪ডটকমের ব্লগার শাহরিয়ার শফিক তবে এ অবস্থার জন্য দায়ী করেছেন দেশের টিভি চ্যানেলগুলোতে শিশুদের জন্য অনুষ্ঠান না থাকাটাকেই:

বাংলাদেশে এই মুহুর্তে দেড় থেকে দুই ডজন চ্যানেল আছে। কিন্তু সেই চ্যানেলগুলোতে শিশুদের জন্য কোন অনুষ্ঠান নেই বললেই চলে। যতদূর মনে পড়ে বিটিভিতে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে সিসিমপুর, মীনা এবং মনের কথা নামে তিনটা অনুষ্ঠান চালু আছে, দেশ টিভিও মাঝে মাঝে মীনা কার্টুন দেখায় এবং অন্য দুয়েকটা চ্যানেল টম এন্ড জেরি ডাবিং করে দেখায়। শিশুদের অনুষ্ঠান বলতে সব মিলিয়ে এই গোটা চারেক। বাকী সব ধারাবাহিক নাটক, খবর, টক-শো, রান্নার অনুষ্ঠান আর প্রতিভা অন্বেষণের জোয়ারে ভরা; যা শিশুদের রঙ্গিন জগতে মূল্যহীন। কাঠখোট্টা কথাবার্তা, হাঁড়ি-কড়াইয়ের ঘটমটি কিংবা প্রেম-রোমান্স-ট্রাজেডি এসব জটিল বিষয় শিশুদের আকর্ষণ করে না।

ব্লগার ফাহমিদুল হক অবশ্য মনে করেন না ডোরেমনের কারণে বাংলা ভাষা বিপদে পড়বে:

বাংলা ভাষার নিজস্ব একটি শক্তি রয়েছে, যা অনুপ্রবেশকারী ভাষার বিপরীতে নিজেকে টিকিয়ে রাখে। নব্বই দশকের শুরুর দিকে স্যাটেলাইট-কেবল টিভি আসার পর সবাই ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়েছিল—ভাষা ও সংস্কৃতি উভয়ই বুঝি রসাতলে গেল! কিন্তু স্থানীয় ভাষা ও সংস্কৃতি কেবল টিভির সঙ্গে অভিযোজন ঘটিয়েছে। নিজেরাই বাংলা ভাষায় বহু চ্যানেল চালু করেছে। সেই সময় বহুলশ্রুত ‘অপসংস্কৃতি’ প্রত্যয়টির কথা আজকাল আর তেমন শোনা যায় না। ডোরেমন যদি সত্যিই বাংলা ভাষাকে বিপদে ফেলে দিয়ে থাকে, তবে এর সহজ সমাধান হলো সিরিজটির ফ্র্যাঞ্চাইজি কিনে বাংলায় ডাব করে প্রচার করা।

5 টি মন্তব্য

আলোচনায় যোগ দিন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .


বিশ্বের অঞ্চলসমূহ

দেশ

ভাষা

বিশেষ টপিক

লেখাটির সাথে আছে