উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ভারত: সেভ ইয়োর ভয়েসের ফ্রিডম ফাস্ট নামক আন্দোলন

ভারতে নতুন আইটি আইন স্থগিতের জন্য( এই বিষয়ে আমাদের পূর্বের পোস্টটি দেখুন) এখনো বিক্ষোভ চলছে। রাজ্য সভায় আইটি আইন-২০১১ স্থগিতের দাবীর সমর্থনে সেভ ইয়োর ভয়েস নামক আন্দোলনের অসীম ত্রিবেদী এবং অলোক দিক্ষিতের করা অনশন ধর্মঘট (ফ্রিডম ফাসট বা স্বাধীনতা উপবাস) আজ পঞ্চম দিনে পা দিল। ২ মে তারিখে তারা তাদের অনশন শুরু করে এবং আইটি আইন ২০১১-এর বিষয়ে সরকার এবং বিরোধী দলের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া না পাওয়া পর্যন্ত, ততক্ষণ তারা তাদের অনশন চালিয়ে যাবার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেছে। রাজ্য সভার সম্মানিত সদস্য এস. পি রাজীভ এই সমস্ত আইন বিলুপ্ত করণের ক্ষেত্রে এক গতি বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন এবং আশা করা হচ্ছে যে আগামী বাজেট অধিবেশনে বিষয়টি উত্থাপন করা হবে।

সেভ ইয়োর ভয়েস নামক প্রতিষ্ঠান-এর পক্ষ থেকে একটি ফেসবুক প্রচারণা শুরু হয়েছে, আমজনতা নামক ব্লগে এই ঘটনার বিষয়ে তাজা সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। এর কিছু সারাংশ:

সরকার এমন একটা আইন কার্যকর করেছে যার মাধ্যমে সে আমাদের ফেসবুকের পোস্টগুলো বিনা বাঁধায় সেন্সর করার, আমরা স্কাইপিতে যে সমস্ত আলোচনা করব তা শোনার, আমাদের টুইট বা ব্লগ পর্যবেক্ষণ করার অথবা আমরা অনলাইনে আমাদের যে সমস্ত ব্যক্তিগত ছবি এবং নথি সংরক্ষণ করব, অথবা আমরা আমাদের মোবাইলের মাধ্যমে যে স্থান চিহ্নিত করি তা নিয়ন্ত্রক করতে পারবে, মোট কথা এই আইন আমাদের সকল অনলাইন কার্যক্রমের উপর সরকারকে বিনা বাঁধায় নজরদারির অনুমতি প্রদান করে। আমরা আমাদের সরকারকে বলতে চাই যে তারা বিভ্রান্তিকর ভাবে সংজ্ঞায়িত আইনের ব্যবহার করতে পারবে না এবং আমাদের বাক ও মত প্রকাশের স্বাধীনতায় কোন জটিলতার সৃষ্টি করতে পারবে না।

দৃশ্যত মনে হচ্ছে যে অনেক ভারতবাসী নতুন আইটি আইনের বিপদ এবং সেন্সরশিপের ফলে যে হুমকির সৃষ্টি হয়েছে, সে বিষয়টি তেমনভাবে উপলব্ধি করতে পারেনি। তারা মনে করছে, কেউ কি আসলে ইন্টারনেট সেন্সর করতে পারে? বিদ্যুৎ নামক ব্লগার এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা প্রদান করেছে এবং দৃঢ়ভাবে জানাচ্ছে কেন এই ধরনের কালা কানুন বাতিলের জন্য আন্দোলনের প্রয়োজন রয়েছে।

ইন্ডিয়ান ল এন্ড টেকনোলজি ব্লগ, আইটি আইন-২০১১ এর বিরুদ্ধে একজন একটিভিস্টের করণীয় কাজের তালিকা তৈরী করেছে।

ভারতের নয়া দিল্লীর যন্ত্রর মন্ত্রর-এর সামনে ফ্রিডম ফাসট নামক অনশন এবং অবস্থান ধর্মঘট। ছবি ‘আই লাভ ইন্ডিয়ার’ সৌজন্যে

আশমিতা থিয়েটারের প্রখ্যাত শিল্পী এবং নির্দেশক আরভিন্দ গৌর নিজে নয়া দিল্লীর যন্তর মন্তর–এ ফ্রিডম ফাসট-এ উপস্থিত ছিলেন. উপরের ছবিতে তিনি আলোক দিক্ষিত এবং অসীম ত্রিবেদীর সাথে বসে আছেন।

অরভিন্দ আইটি আইন প্রয়োগের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন এবং তিনি বলেন যে ইন্টারনেট যা কিনা সাধারণ মানুষের মত প্রকাশের একটি উৎস,এটিকে অব্যশই নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে সরবরাহ করতে হবে এবং তাকে কোন আইনের আওতায় আনা যাবে না।

এই সমস্ত প্রতিবাদের বিষয়ে মূলধারার প্রচার মাধ্যমে নিশ্চুপ রয়েছে,কেবল টুইটারে কিছু নিঃসঙ্গ কণ্ঠ শোনা যাচ্ছে,যারা এই বিষয়ে তাজা সংবাদ প্রদান করে যাচ্ছে:

@রাহুলগাইটান্ডো: আরটি @নিক্সিন: যদি ঘটনাক্রমে আপনারা সচেতন না হয়ে থাকেন, তাহলে জেনে রাখুন আইটি আইনের বিরুদ্ধে যন্ত্রর মন্তরে একটি অনশন ধর্মঘট পালন করা হচ্ছে। http://t.co/6865MHhb

@সেভ ইয়োর ভয়েস: ফ্রিডম ফাস্ট নামক আন্দোলনের পঞ্চম দিনে-আলোক দিক্ষিত এবং অসীম ত্রিবেদীকে স্বাস্থ্যগত কারণে ডঃ রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

থাম্বনেইল ছবি সেভ ইয়োর ভয়েস-এর সৌজন্যে প্রাপ্ত

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .