উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

আর্মেনিয়াঃ তরুণ লেখকের সামরিক অনুমোদন

২৪ বছর বয়সী কম্পিউটার প্রোগ্রামার, এবং অন্যদের মত বাধ্যতামূলক তালিকাভুক্ত সৈনিক হোভ্যানেস ইশকানিয়ান দেশের সামরিক বাহিনী সম্পর্কে একটি সাহিত্যকর্ম প্রকাশের পরেই তিনি ঐ সাবেক সোভিয়েত রাষ্ট্রে রোষানলে পড়েন।

ঐ বইয়ের ৩০০ কপি প্রকাশের পর, আর্মেনিয়ান সামরিক অভিযোক্তা বলেন, বইটি সামরিক বাহিনীর কুৎসা রটিয়েছে, এবং ধর্ম ও মায়েদেরও অপমান করেছে। আর্মেনিয়ান রাজধানী ইয়েরেভানে কমপক্ষে দুটি বইয়ের দোকানের তাক থেকে ডিমব ডে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

মজার ব্যাপার, এই বছর ঐ শহরে ইউনেস্কো বিশ্ব গ্রন্থ রাজধানী- এর স্বীকৃতি পাওয়ায় তা উদযাপন করা হচ্ছে, কিন্তু পর্ণোগ্রাফিক উপাদানের বিস্তৃতি ঘটানোর দায়ে আর্মেনিয়ার অপরাধ নীতির ২৬৩ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে বিচারাধীন থাকা ইশকানিয়ানের জন্য তা তেমন লাভজনক হবে না।

Demob Day

ডিমব ডে

জানা গেছে, আসামি ইশকানিয়ানের জরিমানা অথবা দুই তিন বছরের কারাদন্ড হতে পারে। এই মামলা নিয়ে ইয়ানিয়ানের মন্তব্য:

আর্মেনিয়ান সামরিক বাহিনী বিগত কয়েক বছরে বিনা যুদ্ধে মৃত্যুর খবরে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। যেসব কর্মীরা নিয়মিত মৃত্যুর প্রতিবাদ করে, তারা অনুসন্ধান করতে ব্যর্থ এবং হত্যা গুলোকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেয়ার জন্য সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। ২০১০ এর সেপ্টেম্বরে ইউটিউবে আর্মেনিয়ান সামরিক বাহিনীতে আনুগত্যের জন্য নির্যাতনের ভিডিওটি দেশের ভেতরে ও বাইরে শিরোনাম হয়।
“মুক্তির দিন”- এর ১৬ টি কল্পকাহিনীতে সামরিক বাহিনী সম্পর্কিত তিনটি বিষয় ছিল। ইশকানিয়ানের ভাষায় এর মধ্যে একটির শিরোনাম ছিল “সামরিক মহড়া”, যার বিষয় ছিল ১০০ মহড়ারত সৈন্যের কথা, যারা তাদের সামরিক পরিচয়পত্র নিয়ে সামরিক বাহিনীতে তাদের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এমনকি দি আর্মেনিয়ান অবজারভার বইটি পড়ার জন্য যুক্তি দেখিয়েছে:

পুলিশের এই ঘটনা আমাকে আগ্রহী করেছে, তাই আমি বইটি পড়েছি। স্বীকারোক্তি হল, পড়ার মধ্যে কোন আনন্দ ছিল না। এই বইয়ে আমার মতে অনেক নৃশংস ও অশ্লীল শব্দ রয়েছে, কিন্তু সেগুলোর জন্যই এসব। কেউ আর্মেনিয়ান সামরিক বাহিনী সম্পর্কিত বইয়ের কাছ থেকে এত কোমল ও কাব্যিক শব্দ আশা করে না- মূলত, আমরা একটা বিষয়ের কথা বলছি, যেখানে প্রতি বছর ডজন ডজন সৈন্য বিনা যুদ্ধে মারা যায়, কারণ প্রধানত বিশৃঙ্খলা, অত্যাচার ও চাপ, যেগুলো সৈন্যদেরকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
[...]
এই বইয়ের মূল চরিত্র হল তরুণ সৈন্যরা যারা সামরিক দায়িত্ব পালনকালে মারা গেছে অথবা পঙ্গুত্ব বরণ করেছে, তারা সামরিক কর্মকর্তাদের শোষণের কথা বলেছে।
[...]
বলা নিষ্প্রয়োজন যে, আমরা অনুমোদনের একটা পরিষ্কার ঘটনা দেখতে পাচ্ছি, যা পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।

ইউনিজিপডও মন্তব্য করেছেন, একটি আবেদনই ঐ তরুণ লেখকের সমর্থন এনেছে। “অবিশ্বাস্য,” ঐ ব্লগার লিখেছেন, “আমরা কোন যুগে বাস করছি?! আর্মেনিয়াকে স্ট্যালিনজমের যুগে ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টাকে না বলুন।”

হোভ্যানেস ইশকানিয়ান © নাজিক আরমেকানিয়ান, আর্মেনিয়া নাউ

হোভ্যানেস ইশকানিয়ান © নাজিক আরমেকানিয়ান, আর্মেনিয়া নাউ

এখানে ইশকানিয়ানের গত বছরের একটি সাক্ষাৎকারও দেয়া হয়েছে যেখানে লেখক আর্মেনিয়ায় শিল্পীদের নিয়ে ও শিল্পীদের জন্য সামরিক সংস্কৃতি ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা করেন।

1 টি মন্তব্য

আলোচনায় যোগ দিন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .