উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

সার্বিয়া: দ্রাজিয়া মিহাইলোভিচের পুনর্বাসন বিতর্ক

দ্রাগোলিউব দ্রাজিয়া মিহাইলোভিচ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নিজ দেশে যুগোস্লাভ সেনাবাহিনী’র একজন অধিনায়ক ছিলেন এবং চেৎনিক আন্দোলন নামে পরিচিত ছিলেন। ১৯৪৬ সালে কমিউনিস্ট যুগোস্লাভ কর্তৃপক্ষের হাতে ধরা পড়ে গভীর ষড়যন্ত্র ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে তার ফাঁসী হয়েছিল।

দ্রাজিয়া মিহাইলোভিচ

দ্রাজিয়া মিহাইলোভিচ। ছবি: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হলোকস্ট স্মৃতি যাদুঘর, পাবলিক ডোমেইনে মুজেজ রেভোলুসিইয়ে নারোদনস্তি যুগোস্লাভিইয়ে-এর সৌজন্যে।

দ্রাজিয়ার নাতি ভইস্লাভ মিহাইলোভিচের অনুরোধে তাকে পুনর্বাসনের জন্য জুন ২০১০-এ শুরু হওয়া ট্রাইব্যুনালটি প্রায় শেষের দিকে। কিছু কিছু শিক্ষাবিদ, অধ্যাপক এবং রাজনীতিবিদ অনুরোধটি সমর্থন করলেও সার্বিয়ার জনগণ বিভক্ত। অনেকের কাছেই দ্রাজিয়া মিহাইলোভিচ একজন নিষ্পাপ শিকার। অন্যদের কাছে উচিৎভাবেই অভিযুক্ত দখলদারদের দোসর যে শুধু সার্বিয়ায় নয়, বসনিয়া, হার্জেগোভিনা এবং ক্রোয়েশিয়াতেও অপরাধ করেছে।

এসব দেশের কিছু কিছু রাজনীতিবিদ, এনজিও এবং নাগরিক এই খবরে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তাদের কম-বেশি দ্রাজিয়া মিহাইলোভিচকে সম্পর্কে একইরকমের দৃষ্টিভঙ্গী – একজন অপরাধী এবং বৃহত্তর সার্বিয়া প্রতিষ্ঠার আদর্শের ধারক জাতীয়তাবাদী – বিবেচনা করেন।

ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট আইভো জসিপোভিচ ক্রোয়েশীয় দৈনিক পত্রিকা য্যুত্রানি লিস্ত-এর কাছে বলেছেন:

দ্রাজিয়া মিহাইলোভিচ ছিল একজন যুদ্ধাপরাধী… আমি অনেক মামলার কথা স্মরণ করতে পারি যেখানে [চেৎনিকরা] দোসর হয়েছিল, ফ্যাসিবাদ বিরোধিতা করেনি, কিন্তু জার্মান, ইতালীয়দের সহযোগিতা করেছে এবং [উসতাসে] লড়াই করেছে পার্টিজান’দের বিরুদ্ধে… মিডিয়া যেমন বলছে বিচারটি যদি শেষ হয়েই থাকে – তাহলে অপেক্ষা করতে হবে শেষ পর্যন্ত – দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধিতা বিষয়ে এটা একটা বাজে পদক্ষেপ হবে

বসনিয়ার যুদ্ধের ভূক্তভোগীদের আন্দোলন একটি বক্তব্য দিয়েছে যাতে অন্যান্য বিষয়ের সাথে তারা বলেছে যে:

বৃহত্তর সার্বিয়ার, যাদের একটি ট্রেডমার্ক দ্রাজিয়া মিহাইলোভিচ, তাদের আদর্শবাদের জন্যেই বসনিয়া এবং হার্জেগোভিনাকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। তার পুনর্বাসন প্রাক্কালে আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব ও শান্তি নিয়ে আমরা গভীরভাবেই উদ্বিগ্ন। এবং আমরা ভীত কারণ আমরা জানি না ২০ বছর আগের নৃশংসতা ও মৃত্যুর অভিজ্ঞতা চিরকালই আমাদের পিছনে থাকবে কিনা। আমাদের দেশে আগ্রাসনের সময়ে ফ্যাসিবাদী বা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের শিকার এবং অপরাধীরা একইরকম।

তবে পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী ভুক জেরেমিচ দ্রাজিয়া মিহাইলোভিচের পুণর্বাসনকে সার্বিয়ার একটি অভ্যন্তরীণ বিষয় বিবেচনা করেন

সার্বিয়ান ব্লগার ফিলিপ ম্লাদেনোভিচ তার পোস্টে লিখেছেন:

[...] তবুও  ইতিহাসের পুনরালোচনায় আমি বিশেষভাবে বিরক্ত। আমার কাছে পরিষ্কার নয় যারা আমাদের পূর্বসূরিদের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের আত্মীয়করণের পক্ষে ছিলেন, এখন তারাই রাভনোগোরোস্কি আন্দোলন এবং এর নেতা দ্রাজিয়া মিহাইলোভিচকে পুনর্বাসিত করার চেষ্টা করছেন। সার্বিয়া কেন নিজেকে এমনি এমনি পাওয়া ফ্যাসিবাদবিরোধী জোট থেকে নিজেকে বের করে ফেলছে? ইটা কেন হিটলারের নাজি শাসনের সময়ে সম্মানের সাথে মৃত্যুবরণ এবং সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করা এতজন শিকারকে অস্বীকার করছে? [...]

ম্লাদেনোভিচের পোস্টটির উপর ৩৫০টিরও বেশি মন্তব্য রয়েছে। নিচে সেগুলোর কয়েকটি দেয়া হলো।

জনিত লিখেছেন:

আপনি ফ্যাসিস্ট এবং কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে একজন সত্যিকারের যোদ্ধার দিকে থুতু ফেলছেন, অথচ অপরাধীটি [টিটো], গণহত্যাকারী দেশ এসএফআর যুগোস্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট ফুলের বাসরে ঘুমিয়ে আছে [...]

ডেক্সটেরা বলেছেন:

ফিলিপ, আপনি অনেক কিছু জানেন না। আপনি শুধু টিটোর শাসনামলে তৈরী সরকারী ইতিহাসটি পড়েছেন এবং উদ্বৃত করেছেন। আপনি জানেন না যে দ্রাজিয়া মিহাইলোভিচের বিচারটি ছিল একটি নির্ধারিত [রাজনৈতিক] বিচার। আপনি জানেন না সেখানে কী ধরনের প্রমাণাদি ছিল। আপনি জানেন না [কমিন্টার্ন]-টির ভূমিকা কী ছিল। আপনি জানেন না সোভিয়েত সৈন্যরা বেলগ্রেডে ঢোকার সময় তাদের হাতে দ্রাজিয়ার বোন মারা গিয়েছিল ইত্যাদি। আপনি হয়তো ঠিক টিটোর মতোই সবকিছু সাদা আর কালো করতে চাচ্ছেন।

কাল্ট বলেছেন:

আইন দিয়ে ইতিহাসকে মিথ্যা বানানো এবং জাতীয় বিশ্বাসঘাতক ও দখলদারদের দোসরদের পুনর্বাসন নিষিদ্ধ করা দরকার।

নি্কোলো বলেছেন:

চেৎনিক না পার্টিজান – কারা বেশি অসামরিক জনগণকে হত্যা করেছে আবার সেটা আলোচনা করা বৃথা। তারপরও আলোচকদের কেউ কি বুঝতে পারছেন যে পুনর্বাসনের প্রক্রিয়াটি কেউ অপরাধটি করেছেন কিনা প্রশ্নটির সাথে যুক্ত নয়, বরং সেই প্রশ্নটির সাথে যুক্ত যে অভিযুক্ত ন্যায্য বিচার পেয়েছে নাকি কোনো বিচারই পায়নি?

বেলগ্রেডভিত্তিক ঐতিহাসিক লিউবিংকা ত্রেগভসেভিচ স্লোবোদনা ইভরোপা (মুক্ত ইউরোপ) ওয়েবসাইটকে এটা বলেছেন:

এটা যদি শুধু আদালতের বিচারটির পুনর্গঠন হয় তাহলে যা হোক সমস্যাটি ছোট হতে পারে। এভাবেই হয়তো সে খালাস এবং তার আন্দোলন, সে যে সব করেছে বা করে নি, এসব কিছুই না বলে এটা পার হয়ে যাবে।

ক্রোয়েশিয়ার প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক মার্কো কোভাস একই উৎসকে এটা বলেছেন:

সাব্বাস। নিজেদের কাউকে পুনর্বাসিত করার জন্যে জনগণের আর তর সইছে না। এটা সেই একই সার্বিয়া। জনগণ এখানে [পাভেলিচ-পূর্বদের] পুনর্বাসনের স্বপ্ন দেখে।

শিকাগো থেকে দুসিয়ান স্তেফানোভিচ স্লোবোদনা ইভরোপা নিবন্ধের প্রতি এই মন্তব্যটি রেখে গিয়েছেন:

আমি এমন কাউকে দেখি না যুদ্ধে যার সাথে দ্রাজিয়া বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তিনি টিটোর কমিউনিস্ট, পাভেলিচের সৈন্য [উস্তাসে], হিটলারের ফ্যাসিস্ট… সার্বিয়ার জনগণের সমস্ত শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। তিনি হাজার হাজার মার্কিন বিমানচালককে – ১৯৪৩ সালে শুধু প্রানিয়ানি গ্রাম থেকেই যাদের ৫০০-এরও বেশি জনকে – বাঁচিয়েছিলেন। যুদ্ধে তার অবদানের জন্যে দে গল এবং ট্রুম্যান তাকে সর্বোচ্চ পদকে ভূষিত করেছিলেন। সর্বোপরি জেনারেল মিহাইলোভিচ সার্বিয়ার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেন নি।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .