বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

বাংলাদেশ: ঈদে বাড়ি ফেরা

ঈদুল ফিতর মুসলমান প্রধান বাংলাদেশের মানুষের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় আনন্দ উৎসব। আর এই উৎসবের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে দেশের বাড়িতে গিয়ে ঈদ করা।

মূলত বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার অনেক মানুষ ঈদের সময় দেশের বাড়ীতে গিয়ে ঈদ করতে চায়। ব্লগার নাসিরউদ্দিন হোজ্জা “ঈদে বাড়ি ফেরা” নামক পোস্টে জানাচ্ছে এর কারণ:

“ঢাকা শহরের বেশীর ভাগ বাসিন্দা দেশের অন্য জেলা থেকে আগত, যারা জীবিকার প্রয়োজনে রাজধানী শহরে এসে ঘাঁটি গাড়ে। কিন্তু তাদের মন পড়ে থাকে সেই খানে, যেখান থেকে তারা এসেছে। এই সব মানুষের কারো বাড়ি কোন প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামে আবার কারো বাড়ি আবার একেবারে ঢাকা শহরের প্রান্তে। ঈদের সময় কাছের বা দূরে যেখানে বাসা হোক না কেন, সবাই ছু্টে যেতে চায় আপন ঠিকানায়”।

ঢাকার বাসিন্দারা ঈদে বাড়ি যাবার জন্যে বিভিন্ন ট্রেন স্টেশনে এসে ভীড় করে। ছবি সাদ শাহরিয়ার। সর্ব স্বত্ব ডেমোটিক্স এর

ঢাকার বাসিন্দারা ঈদে বাড়ি যাবার জন্যে বিভিন্ন ট্রেন স্টেশনে এসে ভীড় করে। ছবি সাদ শাহরিয়ারের। সর্ব স্বত্ব ডেমোটিক্স এর।

ঠিক কত লোক ঈদের সময় বাড়ি ফিরে যায়, এই বিষয়ে কোন সঠিক তথ্য নেই। নাসিরউদ্দিন হোজ্জা বলছেন, বর্তমানে ঢাকার জনসংখ্যা ৯৬ লক্ষ প্রায়। এর মধ্যে যদি ৪০ শতাংশ লোক ঢাকা ছেড়ে যায় তাহলে এর পরিমাণ হবে প্রায় ৩৫ লাখ।

“তার মানে ঢাকা প্রায় অর্ধেক ফাঁকা হয়ে যায়। ঈদের অনেক আগে থেকে ঢাকা থেকে লোকজন নিজ নিজ এলাকার দিকে যেতে শুরু করে। এতে ঢাকার অধিবাসীরা দারুণ আনন্দিত হয়, কারণ ঢাকার শহর এই সময় একেবারে ফাঁকা ফাঁকা লাগে”।

ফেসবুক ব্যবহারকারী আমানউল্লাহ বিন মাহমুদের গ্রামের বাড়ি ঢাকা থেকে দূরে সিরাজগঞ্জে। সে ঈদের আগের দিন ঢাকা থেকে বাড়ি যাবে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় গাড়ি ভাড়া করে। কিন্তু যারা গণ পরিবহনের মাধ্যমে বাড়ি যায় তাদের বাড়ি যাওয়াটা হচ্ছে একটা অতীব নিরানন্দ ব্যাপার। কারণ বাড়ি যাওয়ার জন্য টিকেট পাওয়া খুব কঠিন, সহজে মেলে না, আবার যাও বা মেলে তার দাম অনেক বেশী।

বিডি নিউজ ২৪ ব্লগে উজ্জ্বল একটি পোস্ট লিখেছে। যার শিরোনাম “স্বপন যাবে বাড়ী আমার: ভাঙ্গা পথে

কমলাপুর স্টেশনে অগ্রীম টিকেটের জন্যে ভীড়।

কমলাপুর স্টেশনে অগ্রীম টিকেটের জন্যে ভীড়। ছবি শাফিন আহমেদ। সর্ব স্বত্ব ডেমোটিক্স এর।


“ডমেস্টিক এয়ার, বাস, ট্রেন কোথাও কোন টিকেট নেই। শুধু নেই আর নেই। এক বুক আশা নিয়ে তারাবীর নামাজ শেষ করে যারা অতি কষ্ট করে সারারাত টিকেট কাউন্টার এর পাশে লাইন দিয়ে বসে থাকে তারা যে শেষ পর্যন্ত শেষ হাসিটা হাসতে পারবে সেটি ও অনিশ্চিত। মশার কামড় আর নির্ঘুম একটি রাত কাটানোর পর ও যদি একটি টিকেট পাওয়া যায়! আহারে কি যে সেই সুখ! সেই সুখ বুঝানো যাবে তাদের যারা এমনটি ফেস করেছেন।কিন্তু সেই সুখ সবার হাতে ধরা দেয়না। টিকেট কাউন্টার খোলার সাথে সাথেই দুই পাঁচটা টিকেট সেল দেওয়ার পরই সব সোল্ড আউট! খালি হাতে ফিরতে হয় সেই সব স্বপ্ন-বাজ মানুষদের।

এর সাথে সে নিজের অভিজ্ঞতা যোগ করেছে:

“যুদ্ধ আমাকে ও করতে হয়েছে। তবে এবারের যুদ্ধ টা বোধ হয় জীবনের সবচাইতে শ্রেষ্ঠ যুদ্ধ! প্রতিবছর ঈদে দ্যাখা যায় আমি টিকেট কাউন্টারে গেলেই টিকেট নাই হয়েযায়। তাই গেল বছর গুলি যাইনি টিকেট কাউন্টার গুলোতে। ঢাকা থেকে ডমেস্টিক এয়ারলাইনে যশোর। তার পর ওদের গাড়ীতে করে সরাসরি খুলনা। ঢাকা থেকে ৩৫ মিনিটেই যশোর আর যশোর থেকে ৫০ মিনিটেই খুলনা। ব্যাস কোন বালাই নাই। কিন্তু এবার হোল মহা বিপত্তি। লোকাল বিমান গুলি ও ওভার। নাহ ঐ খানেও টিকেট নেই। কিন্তু বাড়ি যেতে হবেই”।

শেষ পর্যন্ত সে বাড়তি টাকা দিয়ে টিকেট সংগ্রহ করেছে। ফেসবুকে অনেক টিকেট না পাওয়াদের সাহায্য করছে।

যেমন প্রখ্যাত লেখক আনিসুল হক ফেসবুকে জানিয়েছিলেন যে তার কাছে ঢাকা- রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন-এর ৫টা এয়ার কন্ডিশনের টিকেট আছে। তিনি অবশেষে কয়েকজনের মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছেন।

কিন্তু টিকেট পাওয়া মানেই আপনার বাড়ি ফেরা নিশ্চিত হচ্ছে না। সামহোয়্যার ইন ব্লগে ব্লগার মামু একটি পোস্ট লিখেছে, যার শিরোনাম “তবুও যেতে হবে বাড়ি”:

সদরঘাট-সন্দ্বীপ রুটে জাহাজ নষ্ট। নদী পথে লঞ্চ সঙ্কট। সারা বাংলাদেশের রাস্তাঘাট নষ্ট। এর সাথে যুক্ত হবে রাস্তার জ্যাম। ট্রেনের বগি আছে কিন্তু ইঞ্জিন নাই। মানুষ প্রচণ্ড ঝামেলার মধ্যে দিয়ে বাড়ি যাবে। যারা ঈদের আগের দিন রওনা দিবে, তাদের পথে ঈদ করতে হয় কিনা পরম করুণাময় জানে।

লোকেরা বাড়ি যাবার জন্যে উপচে পড়া লঞ্চে চড়ে।

লোকেরা বাড়ি যাবার জন্যে উপচে পড়া লঞ্চে চড়ে। ছবি মাঝির সৌজন্যে। সর্ব স্বত্ব ডেমোটিক্স এর।

প্রতি বছর ইদের সময় বাস এবং লঞ্চ দুর্ঘটনা ঘটে। আর এতে অজস্র প্রাণহানী ঘটে। ২০০৯ সালে ভোলায় যাওয়ার পথে শতাধিক যাত্রী নিয়ে লঞ্চ ডুবে গিয়েছিল। সামহোয়্যারইনে ডি এম হাবিব এ প্রসঙ্গে বলছেন:

ঈদে বাড়ি ফেরা যাত্রী নিয়ে ভোলায় লঞ্চ ডুবির ঘটনা ঘটলো। শতাধিক লোকের প্রাণহানি ঘটলো। প্রতি বছর ঈদ এলেই বাস, ট্রেন ও লঞ্চগুলো অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই করে পাড়ি দেয়। সরকার এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপই নেয় না। সাধারণ মানুষও যে যার মত করে যাতায়াত করে। ফলে ঘটে দূর্ঘটনা। সরকার দায় এড়াতে পারে না। ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তপূর্বক দোষীদের শাস্তি হওয়া উচিত।

কিন্তু প্রতি ঈদের চিত্র এ রকম থাকে। যেহেতু যাত্রী বেশী, পরিবহণ সংখ্যা অপ্রতুল, তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ ঈদ করতে দেশের বাড়ি যায়।

নাসিরউদ্দিন হোজ্জা উপসংহার টেনেছে এ ভাবে:

“এত কষ্ট করে যাওয়া বলে আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে করা ঈদের আনন্দ অপরিসীম।“

1 টি মন্তব্য

আলোচনায় যোগ দিন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .