The Global Voices Lingua project hopes to bring GV content to new linguistic audiences - Details

Also in:

দেশ:
নেপাল
বিষয়:
লিঙ্গ, মানবাধিকার
ভাষা:
ইংরেজী

 

বর্ণপ্রথা অনেক লম্বা সময় ধরে নেপালী সমাজে চলে আসছে, যা সমাজের এক শ্রেণীর মানুষের প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করে। এই বিশেষ শ্রেণীর মানুষদের তথাকথিত “অস্পৃশ্য বা দলিত” বলে ডাকা হয়। তাদের নিজের দেশে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। নেপালের সংবিধান দলিতদের সমানাধিকার নিশ্চিত করেছে, কিন্তু সংবিধানের অনেক নিয়ম ও আইনের ফাঁকে, এখানে এখনো দলিতের মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।

দলিতদের ক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিমাণ শিক্ষার সুযোগ না থাকা, তেমন কোন চাকুরি না পাওয়া এবং তাদের প্রতি বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য নেপালের সমাজ কাঠামোয় রয়ে গেছে। যা দেশটির দলিতদের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের পথে বাঁধার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলিত নারীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরো বাজে পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

এভারেস্ট আনসেন্সারড ব্লগের কিরন দলিত নারী ও তাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে।

যখন আমরা দলিত নারীদের কথা বলি, তখন আমরা জানি যে তারা তথাকথিত উচ্চবর্ণের লোকদের হাতে অন্যদের চেয়ে তিন গুণ বেশি বৈষম্যের শিকার হয় (যা দলিত নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে সমান সত্য), একই সাথে এই সমস্ত নারীরা হিন্দু পুরুষতন্ত্র ও দলিত পুরুষদের নিষ্পেষণের শিকার হয়। নেপালের শতকরা ৯০ ভাগ দলিত মহিলা দারিদ্র সীমার নিচে বাস করে এবং তাদের শতকরা ৮০ ভাগ অশিক্ষিত। এই সমস্ত মেয়েরা ভয়ানক স্বাস্থ্য বিষয়ক জটিলতা, নারী পাচার, এবং ঘরে নির্যাতনের ঝুঁকির মধ্যে থাকে এবং তারা রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভাবে শোষণের শিকার হয়ে থাকে।

নেপালের ৮০ শতাংশ দলিত নারী শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত, তাই তাদের উপর ঘটা নির্যাতনের ঘটনা অনেক বেশি। এ ছাড়াও অনেক সময় দলিত নারীরা তথাকথিত সমাজের উচ্চবর্ণের মানুষের উৎসাহমূলক বর্ণবাদী হামলার শিকার হয়ে থাকে। নিউজব্লেজের রেনু ছেত্রী একজন দলিত নারীর কথা জানাচ্ছেন, যে রাজধানী কাঠমুন্ডুর কাছের এক গ্রামে এ ধরনের আক্রমণের শিকার হয়।

সম্প্রতি বি. কে নামের এক দলিত নারী এক ঘৃণ্য অপরাধের শিকার হয়- তার উপর অত্যাচার করা হয় এবং তাকে জোর করে মানুষের মল খেতে বাধ্য করা হয়। যিনি এই বর্বরোচিত ঘটনার পেছনে ছিলেন, তিনিও এক শিক্ষিত নারী। তার নাম বিমলা লামা। তিনি স্থানীয় গাদি ভঞ্জং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। লামার অভিযোগ ছিল, বিকে ডাকিনীবিদ্যার চর্চা করত।

এ বছরের শুরুতে এ ঘটনা ঘটে। তবে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় এই যে এ ধরনের ঘটনা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। প্রতি বছর দলিত নারীরা এ ধরনের অত্যাচারের শিকার হয়ে থাকে এবং তাদের মধ্যে অল্প কয়েকজনই ন্যায়বিচার লাভ করে।

তবে অনেক দলিত নারী এমন কিছু অর্জন করেছে যা এর আগে অর্জন করা অসম্ভব ব্যাপার ছিল। কাঠমান্ডুর বানেশ্বর এলাকার এক মন্দিরের পুরোহিত এখন এক দলিত রমণী

চাক্কুবাক্কু ভগবতী মন্দিরের পুরোহিত ৪৩ বছরের এক দলিত নারী। রাজধানীর ব্যস্ততম বানেশ্বর এলাকায় এই মন্দির অবস্থিত। এর চারপাশে ও সড়কের উপর অনেক দোকান রয়েছ। একজন নারী পুরোহিত হিসেবে পরিচিত হওয়া ছাড়াও তার আরেকটি পরিচয় রয়েছে, তিনি দলিত সম্প্রদায়ের একজন মানুষ। দলিত, এমন এক সম্প্রদায় যারা অনড় রক্ষণশীল নেপালী সমাজ কাঠামোয় নিচের দিকে অবস্থান করে এবং এমনকি এখনো তাদের ছুঁয়ে ফেললে জাত চলে যাবে বলে বিবেচিত করা হয়।

চার সন্তানের মা এই পুরোহিত সার্কি গোত্র থেকে এসেছেন এবং যারা আসলে মুচির কাজ করে। যখন নেপাল সাংবিধানিকভাবে একটি হিন্দুরাজ্য ছিল, সে সময় তাদের জোর করে গরুর মৃতদেহের সাথে বাস করতে বাধ্য করা হত এবং সে সময় গরু বা গোহত্যা নিষিদ্ধ ছিল।

.
২০০৮ সালের ১০ এপ্রিল নেপালে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, সে সময় বেশ কিছু দলিত প্রার্থী নির্বাচনে বিজয়ী হয়, যাদের মধ্যে কয়েকজন দলিত নারীও ছিল। দলিত নেতারা আশা করছে রাজনৈতিক অংশগ্রহণে দলিতদের সংখ্যা বাড়ার ফলে বিষয়টি নেপালী সমাজে যে বৈষম্য রয়েছে তা ঘোচাতে সাহায্য করবে।

নেপালনিউজ.কম থেকে নেপালী ভাষার এক ভিডিও এখানে তুলে দেওয়া হয়েছে, যে ভিডিওতে এক দলিত নেতা আলোচনা করছে কি ভাবে দেশটির নতুন সংবিধানকে নতুন এক আকার দেওয়া যায়, যাতে বর্ণপ্রথা নামক বৈষম্যটিকে চিরতরে দুর করে দেওয়া যায়।

নেপালের দলিতদের সম্বন্ধে আরো তথ্য জানতে চাইলে নেপাল দলিত ইনফো সাইটে প্রবেশ করতে পারেন, যেখানে তথ্যমূলক প্রবন্ধ, গবেষণা এবং নেপালের দলিতদের নিয়ে সম্প্রতি যে আন্দোলন চলছে সে সম্বন্ধে তথ্য রয়েছে। এই সকল তথ্য ইংরেজী ও নেপালী উভয় ভাষাতেই পাওয়া যাবে।

নেপালে কাগজে কলমে লম্বা সময় বৈষম্যের বিরুদ্ধে আইন প্রচলিত রয়েছে, কিন্তু বর্ণপ্রথা সমাজের একটি শ্রেণীকে সমাজ থেকে আলাদা করে রেখেছে। এটা স্পষ্ট যে যতদিন না নেপালের দলিত ব্যক্তি, বিশেষ করে দলিত রমণীরা শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ না পাচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত দলিতদের উপর আক্রমণ করার জন্য নতুন নতুন অজুহাত খোঁজা চলতেই থাকবে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .