The Global Voices Lingua project hopes to bring GV content to new linguistic audiences - Details

Also in:

দেশ:
ইরান
বিষয়:
বাক স্বাধীনতা, সাইবার এক্টিভিজম, মানবাধিকার
ভাষা:
ফার্সী

 

ইরানী ব্লগার এবং বিপ্লবী কর্মী ওমিদ রেজা মিরসাইফি গত সপ্তাহে আড়াই বছরের জেলের সাজা পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ধর্মীয় নেতাদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছেন এবং ইসলামিক রিপাবলিকের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালিয়েছেন। গত পাঁচ বছরে বেশ কয়েকজন ইরানী ব্লগার জেল এবং বিবিধ সাজা ভোগ করেছেন তাদের ব্লগে লেখার জন্যে। এদের কেউ কেউ স্বল্প সময়ের জন্যে আটক ছিলেন আবার কেউ কেউ বেশ কয়েক বছরের জন্যে বিনা বিচারে জেলে পঁচেছেন।

সারা বিশ্বে জেলে আটক ব্লগারদের উপর গবেষণা করেছেন সাইমন কলম্বাস (এ নিয়ে লেখা আসচে অচিরেই)। তিনি অনুমান করছেন যে ইরানে ব্লগে লেখার জন্যে গ্রেফতার হওয়া বিপ্লবীর সংখ্যা প্রায় বিশ। তার কাছে তথ্য আছে যে আরও ৩০ জন ইরানী ব্লগারকে জেলের সাজা দেয়া হয়েছে তাদের ব্লগে লেখার জন্যে নয়, রাজনৈতিক অন্যান্য আভিযোগে।

ব্যক্তিগত এবং সমষ্টিগত গ্রেফতার

সিনা মোতালেবী ছিলেন জেলে যাওয়া প্রথম ইরানী ব্লগার। ২০০৩ সালের এপ্রিল মাসে তিনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার গোয়েন্দা মাখা কর্তৃক আটক হন তার ব্লগের লেখা এবং বিদেশী প্রচার মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেয়ার জন্যে। তিনি ২৩ দিন ধরে একটি গোপনীয় জায়গায় আটক ছিলেন এবং পরে জামিনে মুক্তি পান। সে বছর ডিসেম্বরে সিনা নেদারল্যান্ডে চলে যান এবং রাজনৈতিক আশ্রয় চান।

২০০৪ সালের আগস্ট এবং নভেম্বরের মাঝে তেহরানের প্রধান প্রসিকিউটার সাঈদ মোরতাজাভী প্রায় বিশজন ইন্টারনেট সাংবাদিক এবং ব্লগারকে গ্রেফতার করে। ছাড়া পাবার পর তাদের মধ্যে কেউ কেউ একটি রাষ্ট্রপতির বিশেষ কমিশনের সামনে তাদের বিরুদ্ধে বন্দী অবস্থায় নির্যাতনের অভিযোগ তুলে। হানিফ মাজরোই, মাসুদ ঘোরেইশী, ফেরেস্তেহ গাজী, আরাশ নাদেরপুর এবং মাহবুবেহ আবাশ ঘোলিজাদেহ ২০০৪ সালের ২৫শে ডিসেম্বর ঐ কমিশনের সামনে সাক্ষ্য দেয়। ২০০৫ সালের পহেলা জানুয়ারী ওমিদ মেমারিয়ান এবং রুজবেহ মীর এব্রাহিমী তাদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের বয়ান দেন।

জেলে তাদের বিরুদ্ধে নির্যাতনকারী ব্যক্তিদের ব্যাপারে মেমারিয়ান বলছে, “তাদের শুধু চেহারাটাই মানুষের মত ছিল।” এই ব্লগার আরও জানাচ্ছে: “যখন আমি জেল থেকে বের হলাম আমি নিজেকে বললাম, ‘এদের ভুলে যাও আর আশাবাদকে আহত করো না;' কিন্তু এই অভিজ্ঞতা আমি কিভাবে ভুলব? আমার এখনও মাথার মধ্যে জেলের কক্ষে গার্ডদের চাবি ঘোরানোর শব্দ হয়।”

এর সব কিছু কুকুরের জন্যে?:

একজন সাংবাদিক এবং ব্লগার রেজা ভালিজাদেহ ইরানের রাষ্ট্রপতির অফিস থেকে একটি অভিযোগের স্বীকার হয়েছেন এবং ২০০৭ সালের নভেম্বরে আটক হন। বেশ কিছু ইরানী ব্লগ এবং ওয়েবসাইট জানিয়েছে যে তার প্রতি ইরান সরকারের রোষের কারন হচ্ছে তিনি তার ব্লগে লিখেছিলেন যে রাষ্ট্রপতি আহমাদিনেজাদের সিকিউরিটির দায়িত্বে লোকজন জার্মানী থেকে চারটি কুকুর কেনা হয়েছে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার মার্কিন ডলার করে প্রতিটি। তার কয়েক সপ্তাহ পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

দয়া করে কোন অসম্মান নয়:

মোজতাবা সামিনেজাদ প্রথমবার নভেম্বরের ২০০৪ সালে গ্রেফতার হয়েছিলেন। ২০০৫ সালের জানুয়ারির ২৭ তারিখে জামিনে মুক্তি পান। কিন্তু সে বছর ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে আবার তাকে গ্রেফতার করা হয় কারন তার জামিনের টাকা দ্বিগুণ করে দেয়া হলে তিনি তা দিতে অপারগ হন।

সামিনেজাদের সমর্থনকারীরা জানিয়েছেন যে তিনি অন্য তিনজন ব্লগারের গ্রেফতারের ব্যাপারে তার ব্লগে লিখেছিলেন। সরকারী অভিযোগ মতে সামিনেজাদকে ইরানের রাষ্ট্র প্রধান (সুপ্রীম লীডার) এর বিরুদ্ধে অপমাণ করার অভিযোগ হয়েছে। এছাড়াও ‘রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি' এবং ‘নবীকে অসম্মান করার' অভিযোগও রয়েছে। তাকে বিচারে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং দুই বছর ১০ মাস শাস্তি প্রদান করা হয়।

২০০৫ সালের ২৮শে জুন সামিনেজাদকে ‘নবীকে অসম্মান করার' (শাস্তি মৃত্যুদন্ড) অভিযোগটি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। তাকে কিছুদিন আগে ছেড়ে দেয়া হলেও তার প্রতি চাপ এখনও অব্যাহত আছে।

মাসখানেকের উপরে বন্দী:

প্রায় চল্লিশ দিন আগে একটি রিপোর্ট প্রকাশ পায় যেখানে বলা হয় যে একজন নামকরা ইরানী প্রবাসী ব্লগার হোসেইন দেরাখশান (হোদার নামেও তিনি পরিচিত) তেহরানে গ্রেফতার হয়েছেন। তার গ্রেফতারের কারন এখনও অস্পষ্ট কিন্তু অনেকে ধারণা করছেন যে তার দুবার (ব্যপক প্রচারপ্রাপ্ত) ইজরায়েল যাত্রা হয়ত প্রধান কারন।

ব্লগার জেইতুন বলছেন যে এর আগে ইজরায়েল যাত্রার অভিযোগে অন্যান্য ইরানীদেরও গ্রফতার করা হয়েছে, কিন্তু কয়েক ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদের পরই তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। অনেকে ধারণা করছেন যে দেরাখশান, যিনি সাম্প্রতিককালে রাষ্ট্রপতি আহমাদিনেজাদের সরকারের সমর্থন করছিলেন, গ্রেফতার হয়েছেন কতিপয় ধর্মীয় নেতাকে অসম্মান করার জন্যে। তিনি গ্রেফতারকৃত অনেক ব্লগারদের সাক্ষ্য উপেক্ষা করে পশ্চিমা প্রচার মাধ্যমে তর্ক করেছেন যে ব্লগে লেখার জন্যে ইরানে কেউ জেলে যায়না। ফেসবুকে হোদারের মুক্তি চাই শীর্ষক একটি গ্রুপ খোলা হয়েছে।

আপনারা অনুগ্রহ করে “ইরানী ব্লগাররা তাদের জেলের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলছে” এই লেখাটি পড়ুন।

মোজতাবা সামিনেজাদের ছবি উইকিমিডিয়া কমন্সের সৌজন্যে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .