The Global Voices Lingua project hopes to bring GV content to new linguistic audiences - Details

Also in:

লেবাননে গৃহভৃত্য মানে ক্রীতদাস

অনুবাদকের ছবি

2008-09-01 @ 10:17 EDT · মূল লেখাটি পোস্ট করেছেন ন্যাশ সুলেমান

অনুবাদ করেছেন রেজওয়ান· মূল লেখাটি দেখুন


দেশ:
লেবানন
বিষয়:
মানবাধিকার, শ্রম
ভাষা:
ইংরেজী

 

যদিও লেবানিজ মিডিয়া আর ব্লগাররা সম্প্রতি রাজনৈতিক বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিচ্ছে সাধারণভাবে, কিন্তু অন্যান্য বিষয় আলোচনা আর রিপোর্ট করা দেখলে ভালো লাগে। কিন্তু যখনই ভিন্ন ধরনের রিপোর্ট ছাপা হয়, দেখা যায় সেগুলো আরো খারাপ খবর। আন্তর্জাতিক সংগঠন যেমন হিউমান রাইটস ওয়াচ, ইমিগ্রেশান হিয়ার এন্ড দেয়ার আর আঞ্চলিক ব্লগাররা আতঙ্কিত হওয়ার মতো রিপোর্ট প্রকাশ করছে যে গাল্ফ অঞ্চলে বিদেশী গৃহভৃত্যদের সাথে দুর্ব্যবহারের ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি এরকম ঘটনা লেবাননেও ঘটেছে যেখানে প্রায় ২০০,০০০ মহিলা গৃহভৃত্য আইনগতভাবে কাজ করে। লেবাননের অফিসিয়াল ডিপার্টমেন্ট একে গুরুত্বের সাথে না নেয়ায় এবং মিডিয়া এই সব ব্যাপার তুলে না ধরার কারনে ব্লগাররা অনলাইনে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করছে।

মুসা বশির তার ব্লগে এই সপ্তাহে তুলে ধরেছে হিউমান রাইটস ওয়াচ লেবাননে গৃহভৃত্য অবস্থা সম্পর্কে কি বলতে চাচ্ছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

“গৃহভৃত্যরা লেবাননে সপ্তাহে একজনের বেশী হিসাবে মারা যাচ্ছে,” বলেছেন নাদিম হাউরি, হিউমান রাইটস ওয়াচ এর সিনিয়র গবেষক। ”যারা জড়িত – লেবানীজ কর্তৃপক্ষ থেকে দূতাবাসের কর্মী, নিয়োগকারী এজেন্সী থেকে নিয়োগকারী পর্যন্ত- তাদের নিজেদের জিজ্ঞাসা করা উচিত যে কোন কারনে এই মহিলারা নিজেদের হত্যা করছে বা উঁচু বাড়ী থেকে পালাতে গিয়ে নিজেদের জীবন বিপন্ন করছে।”

লেবানিজ সোশিয়ালিস্ট হিউমান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডাব্লু) এই একই রিপোর্টের উপর আলোকপাত করেছেন:

এইচআরডাব্লু জানিয়েছে যে জানুয়ারী ২০০৭ থেকে অন্তত ২৪ জন গৃহভৃত্য মারা গেছে বহুতল ভবন থেকে পড়ার পর। “অনেক গৃহভৃত্য তাদের জোর করে বন্দীদশা থেকে মুক্তি পাবার জন্য বাধ্য হয় লাফ দিতে বারান্দা থেকে,“ বলেছেন হোউরি।

ক্রিস্টা হিলস্ট্রম, যিনি তার ব্লগ উৎসর্গ করেছেন আধুনিক বিশ্বব্যাপী ক্রীতদাস ব্যবসার যে বিপদ আর বাস্তবতা তার প্রতি, বলেছেন:

যদিও প্রায় এইসব মহিলা আইনসিদ্ধ এজেন্সী থেকেই আসে আর গৃহকর্মে তাদের কিছু প্রশিক্ষণ থাকে, প্রায় তাদের পাসপোর্ট আটকে নেয়া হয় তাদের আসার পর আর তারা শারীরিক আর যৌন নীপিড়নের শিকার হয়।

চাঞ্চল্যকর এইসব খবরের সাথে হিলস্ট্রম এই পরিস্থিতি নিয়ে এলিজা বারথেত এর একটি রিপোর্ট থেকে উদ্ধৃতি দেন:

বৈরুতের নিয়োগকারী এজেন্সী তাদেরকে পণ্য হিসাবে তুলে ধরে বা বিশেষ কেসে পোষ্য হিসাবে। তারা (গৃহকর্তাদের পরামর্শ) দেয় কোন জাতির কর্মীরা বাধ্য, সহজে রাখা যায় বা ‘সহজে ভেঙ্গে পড়ে না।'

পিছু ফিরে দেখলে দেখা যায় যে মুস্তাফার মতো ব্লগার এই ক্রমবর্ধমাণ প্রবণতার ব্যপারে তার দুশ্চিন্তা তুলে ধরেছে:

আমি নিশ্চিত তারা অভুক্ত আর খারাপ অবস্থায় আছে, কিন্তু তার মানে এই না যে তাদেরকে লেবানীজ পরিবারের এই চুড়ান্ত নির্যাতনের পরিবেশ মানতে হবে।

অ্যাঙ্গরী আরব নিউজ সার্ভিসের অধ্যাপক আসাদ আবু খলিল এইচআরডাব্লুর মাধ্যমে ব্যাপারটা যে আন্তর্জাতিকভাবে নজরে আসছে সেই জন্য স্বস্তী বোধ করেছেন:

অবশেষে, হিউমান রাইটস ওয়াচ খেয়াল করেছে।

কয়েক মাস আগে অধ্যাপক আবু খলিল লেবাননে গৃহভৃত্যের পরিস্থিতি বর্ণনা করে একটি আর্টিকেল প্রকাশ করেন যা পরে দৈনিক অনলাইন আল্কোহোনাতে প্রকাশিত হয়:

আমি কখনো শুসার রক্সিকে ভুলব না। মনে আছে? বেচারী শ্রীলঙ্কার গৃহভৃত্য যে দর্শক আর ক্যামেরার সামনে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছিল। আপনার কি মনে আছে সিডোনের লোকেরা সকালে উঠে যখন দেখে যে সে বারান্দায় বিছানার চাদর দিয়ে ফাঁস লাগিয়েছে? কখনো ভেবেছেন সে কেন ফাঁসি নিল? আপনি কি আশা করেন যে যদি আপনি তাকে জিজ্ঞাসা করতে পারতেন? বারান্দায় সে ঘন্টার পর ঘন্টা ঝুলে ছিল আর কেউ দেখেনি বা গ্রাহ্য করেনি। শুসার কেন বারান্দা থেকে ঝুলে গেল আর কেন আমরা কখনো তদন্তের কথা শুনি না?

আবুল্লরের আগের একটা লেখায় একটা প্রামান্য চিত্রকে তুলে ধরা হয়েছিল (লেবাননে গৃহভৃত্য ২) যেখানে কর্মীদের অধিকার, নিয়োগ, চুক্তি আর কাজে প্রতিদিনের নিয়ম নিয়ে বিতর্ক করা হয়েছে।

আর একটা ভীতিজনক দিক যা অনেকটাই খেয়াল করা হয়নি তা হানিবাল কয়েক মাস আগে উল্লেখ করেছেন। তার লেখায় ইথিওপিয়ান সরকারের বৈরুতে কাজের জন্য যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারটি বিশ্লেষণ করেছে:

… লেবাননে বন্ধ দরজার পিছনে গৃহভৃত্য হিসাবে কাজ করতে গিয়ে ইথিওপিয়ান অভিবাসীরা যে গৃহ নির্যাতনের সম্মুখীন হয় এই ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের উপর একটা পুর্ণাঙ্গ তদন্ত করে ইথিওপিয়া বিলটা পাশ করেছে।

… পূর্বের মানবাধিকারের রেকর্ড দেখায় যে ১৯৯৭ আর ১৯৯৯ এর মধ্যে ৬৭ জন ইথিওপিয়ান মহিলা মারা গেছে শুধুমাত্র বৈরুতে কাজ করতে গিয়ে। অনেকের আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি আর অনেককে খুঁজে পাওয়াই কষ্টকর কারন তাদের নিয়োগকারীরা তাদের খ্রীস্টান নাম পাল্টিয়ে দেয় দেশে মুসলিম হিসাবে ঢোকার জন্য।

মন্তব্য করুন: