The Global Voices Lingua project hopes to bring GV content to new linguistic audiences - Details

Also in:

দেশ:
শ্রীলন্কা
বিষয়:
যুদ্ধ এবং সংঘর্ষ, রাজনীতি

 

অক্টোবর ২২ তারিখে শ্রীলন্কার অনুরাধাপুরায় একটি বিমানবাহিনীর ঘাটি তামিল টাইগার আত্মঘাতী স্কোয়াডের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল [সংবাদ: বিবিসি]। বিবিসি অনুযায়ী, তামিল টাইগাররা দাবী করেছে এই আক্রমনে গোয়েন্দাবিমান সহ আটটি বিমানবাহিনীর বিমান তারা ধ্বংস করেছে কিন্তু তাদের ২১ যোদ্ধাকে হারিয়েছে। কিন্তু শ্রীলন্কান সরকার বলেছে শুধু দুই হেলিকপ্টার এবং একটি প্রশিক্ষণবিমান ধংব্সপ্রাপ্ত হয়েছে। তারা জানিয়েছেন এছাড়া নয় সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং চার বিমান বাহিনীর সদস্য মৃত্যুবরন করেছে। যদিও ক্ষয়-ক্ষতি ও মৃতদের সম্বন্ধে তথ্য নিয়ে দুপক্ষেই বেশ গড়মিল রয়েছে তামিল ব্লগোস্ফিয়ার এটি নিয়ে তেমন উচ্চবাচ্য করেনি। যে ঘটনা তামিল ব্লগোস্ফিয়ারে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে তা হলো মৃত তামিল টাইগারদের লাশগুলো নিয়ে শ্রীলন্কান সরকারের আচরণ। লাশগুলো থেকে সব কাপড় খুলে ফেলা হয়েছিল এবং একটি উন্মুক্ত ঠেলাগাড়ী করে সেগুলো অনুরাধাপুরা শহরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

ভারাভানাইয়ান ব্লগ অনুযায়ী, মৃত তামিল টাইগারদের নগ্নতা ছিল তাদের ঘিরে থাকা পোষাক পরা দর্শকদের চেয়ে আরও বেশি সুন্দর (যেমন ওই পোস্টের ফটোতে দেখা যাচ্ছে)। ভারাভানাইয়ান আরও স্মরণ করছে ১৯৯৫ সালে একটি অনুরুপ ঘটনা ঘটেছিল যেখানে মৃত মহিলা তামিল টাগারদের লাশগুলো শ্রীলন্কান সামরিক বাহিনী কর্তৃক অনুরুপ ভাবে প্রদর্শিত হয়েছিল।

উরুপাদাথাতু নারাইন এসংক্রান্ত তার পোষ্টের শিরোনাম দিয়েছেন ‘আবু ঘরীব বনাম অনুরাধাপুরা‘। এই পোস্টের মন্তব্য সেকশনে যে বিতর্ক শুরু হয় সেখানে ব্লগাররা মার্কিন মিডিয়া এবং ভারতীয় মিডিয়ার (তামিল নাড়ুর) তুলনা করেছে। যেখানে মার্কিন মিডিয়া আবু ঘরীবের ঘটনাগুলো উন্মোচন করেছিল, তামিল নাড়ুর মিডিয়া বিশেষ করে দি হিন্দু পত্রিকা অনুরাধাপুরা ঘটনায় শ্রীলন্কান সরকারের পক্ষ নিল।

ওসাই চেল্লা মৃত তামিল টাইগারদের ফটো প্রদর্শন করেছেন তার ব্লগে- পোষাক পড়া এবং বস্ত্রহীন উভয় সময়কারই। তিনি ভৎসর্না করে দাবী করেছেন ‘দি হিন্দু' পত্রিকার সম্পাদক শ্রী রাম, যিনি শ্রীলন্কার পূর্ববর্তী সরকার কর্তৃক ‘লন্কা রত্ন' উপাধীতে পুরস্কৃত হয়েছিলেন, যেন এ নিয়ে একটি সম্পাদকীয় লিখেন।

জুলিয়ান ভারত থেকে প্রকাশিত দুই প্রতিবেদনকে তুলনা করেছে এবং চিন্তা করছে যে কোনটি সঠিক। প্রথম প্রতিবেদন ছিল দক্ষিণ এশিয়া বিশ্লেষণ গ্রুপের বি রমনের [লিন্ক: উইকিপিডিয়া]। দ্বিতীয়টি ‘দ্য হিন্দু' থেকে। জুলিয়ান তার পোস্টে লিঙ্কের সঙ্গে উভয় প্রতিবেদন থেকে অল্প বাক্য জুড়ে দিয়েছে।

তামিল শশীও বি রমনের প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন এবং শ্রীলন্কান সরকারের সাম্প্রতিক বাড়াবাড়ির ব্যাপারে কিছু কথা বলেন। তিনি অতীতে তামিল টাইগারদের দ্বারা মৃত শ্রীলন্কান সামরিক বাহিনীর সদস্যদের লাশগুলোতে সম্মান প্রদর্শনের ঘটনার সঙ্গে অনুরাধাপুরার ঘটনা তুলনা করেন।

এই সব যখন ঘটছে এদেশে তখন বিশ্বের অন্য প্রান্তে হিলারী ক্লিন্টন ‘দি গার্জিয়ানকে' দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে বলেছে “আপনারা সব ধরনের চরমপন্থীকে এক নিক্তিতে মাপতে পারবেন না”। যখন তাকে প্রশ্ন করা হয় যে উগ্রপন্থীদের সুনির্দিষ্ট ও স্থাননির্ভর লক্ষ্য রয়েছে কিনা তিনি উল্লেখ করেন শ্রীলঙ্কার তামিল টাইগারদের এবং সাথে সাথে স্পেনের বাস্ক বিপ্লবীদের এবং আল-আনবার প্রভিন্সের চরমপন্থীদের।

তামিল শশী এবং ভেত্রী কান্দাস্বামী উক্ত সাক্ষাৎকার থেকে সুনির্দিষ্ট অংশ অনুবাদ করেছে।

সাইড নোট: ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নাক্কিরান নামে এক ভারতীয় ব্লগার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অগ্নিকান্ডের দরুন সাময়িকভাবে স্থানচ্যুত হয়েছিল।তার ভাড়া করা এপার্টমেন্ট থেকে তার সরে যাওয়াটা ছিল কেবল অস্থায়ী। তবুও সে চিন্তা করছিল সে ফিরে এসে ভবনটি কে নিরাপদ দেখবে কিনা এবং তার প্রিয়তম ব্যাক্তিগত সম্পদগুলো নিরাপদ থাকবে কিনা। এবং এরই মধ্যে সে শ্রীলন্কান তামিলদের কষ্ট সম্বন্ধে ভাবছিল। তারা তাদের প্রিয়তমের এবং নিজেদের জীবন সংরক্ষণ করতে হয়ত এমনভাবেই চেষ্টা করছে সে ভাবল। তাদের সবকিছু ত্যাগ করার বেদনা সম্বন্ধে চিন্তা করল। এভাবে কিছু সময়ের জন্যে তাদের কষ্টের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিল সে।

- ম্যাথী কান্দাসামী

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .